৪ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মারা গেলেন সাবিনা আক্তার (১৫)। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০ ডিসেম্বর ধর্ষণের পর তাকে কারখানার কেমিক্যাল খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় ২১ ডিসেম্বর তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।
তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবে খোদা সাবিনা আক্তারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাবিনা আক্তারের বড় বোন যমুনা বেগম জানান, সাবিনা আক্তার তুরাগের কামারপাড়া বামনারটেক এলাকায় সুরমা সিরামিক নামে একটি কারখানায় তিন বছর ধরে কাজ করে আসছিল। কাজের সুবাদে ওই কারখানার কর্মচারী রমজান আলীর (২২) সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়।
তিনি আরও জানান, রমজান তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করে। ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কারখানার ভেতরে তাকে ফের ধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে জোর করে সিরামিক কারখানায় ব্যবহার করা কেমিক্যাল খাইয়ে দেওয়া হয়। তার চিৎকারে কারখানার কর্মচারীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে।
যমুনা বেগম জানান, খবর পেয়ে সাবিনাকে ২১ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই সঙ্গে থানায় একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়।
ওসি মাহবুবে খোদা জানান, রমজান আলীর সঙ্গে সাবিনার সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে সাবিনা তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু প্রত্যাখ্যান করায় সাবিনা নিজেই কেমিক্যাল খায়।
তিনি আরও জানান, ওই ঘটনায় ২১ ডিসেম্বর নারী নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রমজান আলীকে আটক করা হয়েছে।
সাবিনার মৃত্যুর বিষয়ে তিনি জানান, লাশের ময়নাতদন্ত হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাবিনা আক্তার দিনাজপুর জেলার খানসামা থানার সুকর্নছলি গ্রামের আব্দুল জলিলের মেয়ে। তিনি তুরাগের কামারপাড়া বামনারটেক এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
এমকে





