সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভায় এক মঞ্চে উঠে হাতে হাত রেখে ‘ঐক্যে’র ঘোষণা দেন গত কয়েকদিন ধরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়ানো এই দুইজন।
সভায় সভাপতি হিসেবে প্রায় ১৮ মিনিটের বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরী আগামীতে ‘ঐক্যবদ্ধভাবে’ চলার ঘোষণা দেন।
এরপরই পাশে হাতে হাত ধরে দাঁড়িয়ে মহিউদ্দিনের ‘নেতৃত্বে’ কাজ করার ঘোষণা দেন নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র নাছির।
দুই নেতার ‘ঐক্যের’ ঘোষণায় স্বস্তি নেমে এসেছে তাদের অনুসারীদের মধ্যে; উল্লসিতও দেখা গেছে তাদের।
চট্টগ্রাম মহানগরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিনবারের মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছিরের বিবাদের ইতিহাস এক দশকের পুরনো।
মহিউদ্দিন যখন মেয়র ছিলেন,তখনও ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব নিয়ে নাছিরের সঙ্গে তার দূরত্বের খবর পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে।
দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের সিটি নির্বাচনে মহিউদ্দিনের বদলে মনোনয়ন দেন নাছিরকে। কেন্দ্রের নির্দেশে মহিউদ্দিন সে সময় নাছিরের পক্ষে প্রচারেও নামেন।
কিন্তু নির্বাচনের আগে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর বিরোধিতা করা নাছির গত বছর নগরজুড়ে জমি ও স্থাপনার হোল্ডিং ট্যাক্স পুনঃনির্ধারণের ঘোষণা দিলে প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা শুরু করেন মহিউদ্দিন।
সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে মেয়র নাছির নগরীর পাথরঘাটা থেকে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র রাজাখালে সরিয়ে নিলে মার্চে তা আগের স্থানে ফিরিয়ে আনেন সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন। তখন থেকেই দুই নেতার বিবাদ প্রকাশ্যে চরম আকার ধারণ করে।
গত ১০ এপ্রিল লালদীঘি মাঠে এক সমাবেশ থেকে মহিউদ্দিন চৌধুরী তার সাধারণ সম্পাদক নাছিরকে ‘খুনি’ আখ্যায়িত করেন। তার অভিযোগ,নাছিরের তত্ত্বাবধানে ১২টি খুন হয়েছে।
নাছিরকে ‘অথর্ব’ আখ্যায়িত করে তাকে মেয়র পদ থেকে অপসারণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানোর কথাও মহিউদ্দিন বলেন।
এর পাল্টায় মেয়র নাছির খুনের প্রমাণ দেওয়ার আহ্বান জানান। মহিউদ্দিনের বক্তব্যকে ‘পাগলের প্রলাপ’ বলে উড়িয়ে দেন তিনি।
এরপর মঙ্গলবার দুপুরে মহিউদ্দিন চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, নাছিরের হাত দিয়ে মানুষ খুন হওয়ার প্রমাণ তার কাছে আছে।
টাইমনিউজবিডি.নেট/মাহমুদ





