আসন্ন ঢাকা সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীতে তিন ধরনের নিরাপত্তা গ্রহণ করেছে পুলিশ। রাজনৈতিক সহিংসতা ও জঙ্গিদের সাম্প্রতিক কর্মকান্ড মাথায় রেখে রাজধানীতে নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের দিন ও পরবর্তী সময় যেন কেউ কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে এজন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে টাইমনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো: মাসুদুর রহমান এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীতে কেউ যেন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে এজন্য পুলিশ তিন ধরনের নিরাপত্তা গ্রহণ করবে। নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা যেন নির্বাচনী আচারণবিধি লঙ্ঘন কিংবা দলীয় ও পেশী শক্তি ব্যবহার করতে না পারেন সেদিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।
মাসুদুর রহমান আরো বলেন, নির্বাচনে কেউ যেন কোন পেশাদার অপরাধীকে ব্যবহার করতে না পারেন সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন কোন রকম অনিয়ম এবং ভোটের ব্যলোট বাক্স ছিনিয়ে নিতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। নির্বাচনের পর বিজিত ও পরাজিত কোন পক্ষই যেন অপর পক্ষকে আক্রমন করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে।
মাসুদুর রহমান বলেন, নির্বাচন চলাকালীন কেউ যদি কোন সহিংসতা ঘটাতে চায় তাহলে তাৎক্ষনিক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিধান রয়েছে তা করতে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহায়তা প্রদানে তারা প্রস্তুত।
এর আগে, গত ২৬ শে মার্চ ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ তথ্য বিভাগ) মো: মনিরুল ইসলাম বলেন, যদি কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা থাকে আর সে যদি নির্বাচন করতে চায় তাহলে পুলিশ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
তিনি আরো বলেছেন, তবে প্রার্থী যদি আদালত থেকে জামিন নেন তাহলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন।
মাসুদুর রহমান বলেন, পুলিশ জনগনের নিরাপত্তায় বিশ্বাসী। নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের পরে কেউ যদি কোন অপরাধ করতে চায় তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ, ডিবি, সিআইডিসহ পুলিশকে সহায়তা করার জন্য অন্যান্য বাহিনীও প্রস্তুত থাকবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা দমনে যে গ্রেফতার আভিযান চলছে, তা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটা নির্বাচনকালীন সময় এবং তার পরেও অব্যহত থাকবে। এতে কোন প্রার্থীরও যদি সহিংতার সাথে জড়িত থাকার প্রমান মেলে, আর তিনি যদি আদালত থেকে জামিন না নেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত ১৮ মার্চ প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন এবার বিএনপির হরতাল আবরোধের কারণে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তারা চিন্তিত আছেন। প্রয়োজনে সেনা মতায়ন করা হবে বলেও বলেছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
উল্লেখ্য, গত ১৮ই মার্চ প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবুদ্দিন ২৮ এপ্রিল নির্বাচনের দিন এবং ২৯ মার্চ মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন বলে গণমাধ্যমকে জানান। এছাড়া ১ ও ২ এপ্রিল প্রার্থীতা যাচাই-বাছাই এবং ৯ এপ্রিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করার কথাও জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
এআই/কেবি





