ইলিশ প্রজনন মওসুম উপলক্ষে দীর্ঘ ২২ দিন নিষেধাজ্ঞার পর আবার ব্যস্ত সময় পার করছেন উপকূলীয় জেলেরা। দীর্ঘ অলস সময় কাটিয়ে আবার সরব মাঝি এবং জেলেরা।

ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞার নির্ধারিত সময় বুধবার (৩০ অক্টোবর) ১২টা পর্যন্ত। সকালের সূর্য ওঠার আগেই জেলেরা ছুটবেন সমুদ্রপানে। দীর্ঘ অবসর সময় পরিবারের সঙ্গে কাটিয়ে মাঝি-মাল্লারা ফিরে এসেছেন মহাজনদের আড়তে।

ইতোমধ্যেই ট্রলারে তেল, বরফ, সরদ তুলে সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাগরে যাবার। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) পাথরঘাটা শাখা এবং পৌর শহরের প্রধান বাজারে মুদি মনোহরী দোকানে জেলেদের বাজার-সদাই করার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

মাঝি ইউসুফ, সেলিম, আলম ফিটার ও জাকির জানান, অবরোধের আগের দিন ৮ অক্টোবর সাগর থেকে ফিরে আসেন তারা। পরের দিন বাড়িতে চলে যান। এই দীর্ঘ অবসর সময়টা ট্রলার ও জাল মেরামতের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গেই কাটিয়েছেন তারা। তাদের প্রত্যেকের ট্রলারে মোট ১৭ থেকে ২০ জন জেলে। সবাই সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে মহাজনের আড়তে ফিরেছেন।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুম আকন বলেন, অবরোধের সময়ের মধ্যে জাল, ট্রলার মেরামত করে সাগরে যাবার উপযুক্ত করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বুধবার অবরোধের শেষ দিন। মধ্য রাতেই সাগরের উদ্দেশে রওনা হবে উপকূলের ট্রলারগুলো।

জেলে মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, বিগত বছরের মতো এবারও বরগুনার জেলেরা শতভাগ সরকারের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করেছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কোনো জেলেকে নদী-সাগরে জাল ফেলতে দেখা যায়নি।তবে বরাবরের মতো এ নিষেধাজ্ঞার সময় ভারতীয় জেলেদের মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আক্ষেপ করেন তিনি।

চলতি বছরের ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে দ্বিতীয়বারের মতো ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, কেনা-বেচা, মজুদ ও বিনিময় সম্পূর্ণ বন্ধ রাখে সরকার।

এম বিল্লাহ