ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চটির অবস্থান শনাক্তে অভিযান মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে ফের শুরু হয়েছে। লঞ্চটির অবস্থান শনাক্তে সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে অভিযান শুরু হলেও এক ঘণ্টা চলার পর তা বন্ধ করা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব একটি বোট এবং একটি ভাড়া করা ট্রলারে করে অভিযান চলে। তখন নদী শান্ত ছিল। পরে বৃষ্টির কারণে আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় এক ঘণ্টা পর লঞ্চ শনাক্ত অভিযান বন্ধ করে দেয় ফায়ার সার্ভিস। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক আবদুস সালামের নেতৃত্বে কয়েকটি ইউনিট অভিযানে অংশ নেয়।

মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে খুলনা থেকে আসা একটি জাহাজ ডুবে যাওয়া লঞ্চটি শনাক্তে অভিযান শুরু করেছে।

রাত দেড়টার দিকে অভিযান চলাকালে ট্রলার থেকে নদীতে ফেলানো রশিতে কিছু একটা আটকে যায়। জায়গাটি ছিল ডুবে যাওয়া লঞ্চের কাছাকাছি। তখন আটকে যাওয়া বস্তুটি লঞ্চ কি না, জানার জন্য ডুবুরিরা নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় রশিটি ছিঁড়ে যায়। তাছাড়া, অভিযানে যে ট্রলারটি ব্যবহার করা হচ্ছিল মাঝনদীতে স্রোতের মধ্যে স্থির হয়ে অবস্থান না করার উপযোগী হওয়ায় শনাক্ত অভিযান স্থগিত করা হয়।

এর আগে উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর লঞ্চের অবস্থান শনাক্তে নতুন করে কাজ শুরু হয়। দুর্ঘটনার পর সাইড স্ক্যানার সোনার ব্যবহার করে পানির নিচে লঞ্চটি শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হলেও তাতে সফল হননি উদ্ধারকর্মীরা।

এর আগে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল স্পিডবোট ও ট্রলারে করে নদীতে তল্লাশি শুরু করেন। কিন্তু প্রবল স্রোত আর বাতাসের কারণে তাদের কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মাওয়া ঘাটের উদ্দেশে কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চ পিনাক-৬ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে পদ্মা নদীতে প্রবল স্রোত এবং বাতাসে পড়ে ডুবে যায়। প্রচণ্ড ঢেউ আর তীব্র স্রোতের মধ্যে গভীর রাত পর্যন্ত লঞ্চটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

দুর্ঘটনার পরপরই ট্রলার ও স্পিডবোট নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন।

এমএল পিনাক-৬ নামে লঞ্চটির ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ১২০। তবে তাতে আড়াই শতাধিক যাত্রী ছিল।

ঢাকা, ৫ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই