বাংলাদেশের ব্লগাররা তাদের বিরুদ্ধে হুমকির বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করার পরও বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ তাদের রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটির এশিয়া পরিচালক ব্রাড এডামস এ অভিযোগ করেন।
মঙ্গলবার সংস্থাটির নিজস্ব সাইটে এই বিবৃতি আপ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ব্লাগাররা তাদের বিরুদ্ধে হুমকির বিষয়ে পুলিশের নিকট অভিযোগ করা সত্ত্বেও বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ তাদের রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের উচিত সংবিধান সমুন্নত, জনগণের জীবনের নিরাপত্তা ও একই ভাবে তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করা।
জরুরি ভিত্তিতে এসব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় সংস্থাটি।
বাংলাদেশে ব্লগারদের স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপে উদ্বুদ্ধ না করে বাক স্বাধীনতার পরিবেশ নিশ্চিতের সাথে ব্লগারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপকারীদের বিচারের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছে তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ব্লগার নিলাদ্রী চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, সবার নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
'নীলয় নীল' নামে পরিচিত নিলাদ্রী চট্টোপাধ্যায়কে গত ৭ই আগস্ট ঢাকার গোরান এলাকায় নিজের বাসায় ঢুকে হত্যা করা হয়।
সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শক বাংলাদেশে ব্লগারদেরকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না হানার যে পরামর্শ দেন, তার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে এই বিবৃতিতে। পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক খানের করা বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে এইচআরডব্লিউ বলছে, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়কে হত্যার হুমকি দেয়ার পরও কোনও ব্যবস্থা নিতে পুলিশের ব্যর্থতা কিংবা খুনীদের ধরতে না পারার বিষয়ে কোনও বক্তব্য না দিয়ে, পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক মন্তব্য করেছেন, “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া আইন অনুসারে অপরাধ”।
যেখানে দ্রুত তদন্তকাজ শেষ করার নিশ্চয়তা দেয়ার কথা সেখানে পুলিশের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিটি বলছেন, “যারা মুক্ত চিন্তার লেখক তাদের অনুরোধ করছি, আপনারা সীমা অতিক্রম করবেন না। কারও ধর্মীয় অনুভূতি বা বিশ্বাসে আঘাত হতে পারে এমন কিছুই লেখা উচিত নয়”।
সংগঠনটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলছেন, “এটা খুবই হতাশাজনক। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার হুমকি থাকা সত্ত্বেও ব্লগারদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে শুধু তাই নয়, উল্টো তাদের লেখালেখিতে সেল্ফ সেন্সরশিপ বা আত্ম-নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দিচ্ছে”। ব্রাড অ্যাডামস আরও মন্তব্য করেন, সরকারের মনে রাখা উচিত ধর্মীয় স্বাধীনতার পাশাপাশি সংবিধান সমুন্নত রাখা এবং মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দেয়াও তাদের দায়িত্ব।
এএইচ





