জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ করে বলেন, ছাত্রলীগ সামলান নইলে ক্ষমতা ছাড়ুন। ছাত্রলীগের সোনার ছেলেদেরকে থামাতে পারছেন না। তিনি কিভাবে দেশের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য থামাবেন।

আজ শুক্রবার ২১ নভেম্বর তিনি ছাত্রলীগের কর্মকান্ডের উপর এ বিবৃতি প্রদান করেন।

তিনি ছাত্রলীগের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ছাত্রলীগ শুধু বেপরোয়া হয়েই ওঠেনি বরং নৃশংস আচরণ করছে। ক্ষমতা দখলের জন্য নৃশংসভাবে নিজ দলীয় নেতাকর্মীদেরকেও খুন করতে দ্বিধাবোধ করছে না।

সারাদেশের ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বতর্মানে ছাত্রলীগ বেসামাল অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নৃশংস হত্যাকান্ডের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এভাবে ছাত্রলীগ নির্মম ও নিষ্ঠুর আচরণ করলে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

কারণ টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়ায় বেপরোয়া ছাত্রলীগ। গত কয়েক বছরে সহস্রাধিক সংঘর্ষ ছাত্রলীগের অতীত ঐতিহ্যকে কালিমা লেপন করে দিয়েছে। আর এ কারণেই অধ্যাপক শফিউলের মত জনপ্রিয় শিক্ষকরা বারবার হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছে।

আর খুনীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সুযোগে অন্যরাও বেপরোয়া হয়ে দেশ ধবংসাত্মক কর্মকান্ডে মেতে উঠছে। আর এর দায়ভার রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

দেশে মানবাধিকার বলতে এখন আর কিছু নেই। স্বয়ং মানবাধিকার কমিশনই পুলিশের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য টিপু সুলতানের ছেলে হুমায়ন কর্তৃক ডাঃ শামারুখ হত্যা সমাজে নতুন করে একটি কালো অধ্যায় সূচীত হয়েছে।

এইভাবে নৃশংস হত্যাকান্ড গুম-খুনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র সুস্থ্য ধারায় চলতে পারে না। গণতন্ত্রের সুস্থ্য ধারা ফিরিয়ে আনতে হলে এখনই সময় পদত্যাগ করুন এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন।

কেএইচ/এসএইচ