পুরান ঢাকার চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে কোনো ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হয়নি বলে চুড়িহাট্টা মসজিদ এলাকার আশপাশে বসবাসরত স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

তাঁরা বলছেন, ঘটনাস্থলের আশপাশে মোট চারটি ট্রান্সফরমার আছে, যার চারটাই অক্ষত অবস্থায় আছে।

চুরিহাট্টা শাহী মসজিদের পাশের ভবনের মালিকের ছেলে ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশে মাত্র চারটি ট্রান্সফরমার ছিল।

এখনো সেই চারটিই আছে এবং অক্ষত অবস্থায় আছে। যে বা যারা বলছেন ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হয়েছে তারা কেউ এখানকার বাসিন্দা না। তাই তাঁরা ভুল তথ্য দিচ্ছেন।

স্থানীয়দের কথার সূত্র ধরে সরেজমিনে চারটি ট্রান্সফরমারই দেখতে পাওয়া যায়। মসজিদের দুপাশ দিয়ে দুটি রোড গেছে। একটি নন্দ কুমার রোড, অপরটি উর্দু রোড। নন্দ কুমার রোডে ঘটনাস্থলের পাশেই দুটি ট্রান্সফরমার অক্ষত দেখা গেছে।

মসজিদের কোণায় উর্দু রোডে আরেকটি ট্রান্সফরমার অক্ষত দেখা গেছে। এ ছাড়া নন্দ কুমার রোডের শেষে ওয়াটার ওয়াক্স রোডের মুখে একটি ট্রান্সফরমার অক্ষত দেখতে পাওয়া গেছে।

১৪ নম্বর বাসার চতুর্থ তলার বাসিন্দা আলতাফ হোসেন। তিনি বলেন, এখানে মূলত আগুন লেগেছে সিলিন্ডার থেকে। ট্রান্সফরমারের কারণে আগুন লাগেনি। আগুন বাড়িয়েও দেয়নি ট্রান্সফরমার। কারণ এখানে ট্রান্সফরমারগুলো যে অবস্থায় ছিল সেই অবস্থাতে এখনো আছে।

এ ছাড়া ঘটনাস্থলের পাশাপাশি অবস্থিত কয়েকজন বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা হলে তাঁরাও ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত না হওয়ার কথা বলেন। এদের ভেতরে একটি বাড়ির মালিক মোসাব্বির রহমান বলেন, রাজমহল হোটেল ও আনাস হোটেলের জন্য গ্যাসভর্তি কয়েকটি সিলিন্ডার নিয়ে এসেছিল একটি পিকআপ।

আগুন লাগার সময় পিকআপটি হোটেল দুটির সামনেই ছিল। তবে আগুন কিন্তু হোটেলের সামনে থাকা সিলিন্ডার থেকে প্রথমে লাগেনি। আগুন লেগেছিল রাস্তায় চলমান একটি পিকআপ থেকে।

মোসাব্বির রহমান আরো বলেন, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ওই পিকআপে ধাক্কা দিলে তখন সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তারপর পাশে থেকে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। আগুন তখন আরো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তারপর ওয়াহেদ ম্যানশনে আগুন লাগে।

যদিও আগুন লাগা নিয়ে ভিন্নমত আছে। কেউ কেউ বলছেন, মূলত ওয়াহেদ ম্যানশন থেকেই আগুনের উৎপত্তি।

এএস