রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী চকবাজারের ইফতার বাজারে অভিযান চালিয়ে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পৃথক দু’টি অভিযানে সোমবার দুপুরে এ জরিমানা করা হয়।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই্) তত্ত্বাবধানে ও ঢাকা মহানগর পুলিশের সহায়তায় জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল কদ্দুস এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন। এ ছাড়া র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-১০) তত্ত্বাবধানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলম অপর একটি অভিযানের নেতৃত্ব দেন। এ সময় র‌্যাব বিএসটিআইয়ের পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম, ফিল্ড অফিসার মাজহারুল ইসলাম, র‌্যাব-১০ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর জাহাঙ্গীর কবির, চকবাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই), মাহবুবুর রহমান, নাজিম উদ্দিন ও মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল কুদ্দুস সাংবাদিকদের বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৪৩ ধারা অনুযায়ী, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎ‍পাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণ আইনে দণ্ডণীয় অপরাধ। সে অপরাধে তাদের জরিমানা করা হয়েছে।’

তিনি জানান, জরিমানা করা ৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দু’টি মিষ্টির দোকান ও ৪টি ইফতারের দোকান রয়েছে। এদের মধ্যে আলাউদ্দিন সুইটসের মালিক আমির উদ্দিনকে ১ লাখ টাকা, বোম্বে সুইটসের মালিক আব্দুল খালেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ইফতার বিক্রেতা জাকির হোসেনকে ২০ হাজার টাকা, ‘বড় বাপের পোলায় খায়’বিক্রেতা আব্দুস সালামকে ৫০ হাজার টাকা, ‘শাহী দই বড়া’ বিক্রেতা আব্দুল জলিলকে ২০ হাজার টাকা, শুক্কুর আলীকে ১০ হাজার টাকা, জাকির হোসেনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৪১ ধারা অনুযায়ী, ইফতার বিক্রেতা কতুব মিয়াকে ৮ হাজার, সালাউদ্দিনকে ১০ হাজার ও ইউসুফ আলীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

শাহী দই বড়া দোকানের আব্দুল জলিল বলেন, ‘এখানে যে অভিযান চালানো হয়েছে, এটা শুধু আন্দাজের ওপর। তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কোনো যন্ত্র নেই। মনে যা আসছে তাই করছে।’

তিনি বলেন, এখানে প্রায় ৩৫ বছর যাবৎ ব্যবসা করছি। দই বড়া নিয়ে ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখুন এতে কি পান। এর পর জরিমানা করুন।

শুধু জলিল নয়, অনেক ব্যবসায়ীই এ অভিযানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইফতার বিক্রয়কারী রহিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের আগে থেকে সতর্ক করা উচিত ছিল। এরপর না শুনলে তখন জরিমানা করতে পারত। কিন্তু সেটি করা হয়নি।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে আজগর নামের এক বিক্রেতা বলেন, ‘ঢেকে রাখলে তো আপনারাই কিনবেন না। তাহলে আমরা কি করব। ব্যবসা বন্ধ করে দেব?

এএইচ