শ্রীলঙ্কা থেকে ফিরে আসা ১১ বাংলাদেশি শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গতকাল শুক্রবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবতরণের পর তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি ইউনিট কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

শ্রীলঙ্কায় এই শ্রমিকরা আত্মঘাতী এক বোমা হামলকারীর প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। শুক্রবার দুপুর ১২টায় মালিন্দ এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইটে (ওডি ১৬৪) তারা ঢাকায় আসেন।

শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলাকারীদের মধ্যে দুজন ছিল আপন ভাই। তাদেরই একজন ইনসাফ ইব্রাহীমের একটি তামা কারখানায় এই শ্রমিকরা কাজ করতেন। ওই কারখানাতেই আত্মঘাতী হামলায় ব্যবহৃত বোমাগুলো তৈরি হয়েছিল বলে শ্রীলঙ্কার পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, ওই কারখানায় যারা কর্মরত ছিলেন, তারা কেউ বোমা হামলা বা সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে কোনও তথ্য জানেন কিনা, সেজন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কলম্বোয় বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এবিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর ঢাকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিমানবন্দরে অবস্থান নেন। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন এলাকাতেই বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা তাদেরকে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করেন। শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরত আসা শ্রমিকদের সবার বাড়ি টাঙ্গাইলে জানা গেলেও তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

শ্রীলঙ্কান পুলিশের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, ইনসাফ ইব্রাহীম সাংরি-লা হোটেলে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। তার ভাই ইলহাম ইব্রাহীম পাশের সিনোমন গ্র্যান্ড হোটেলে আত্মঘাতী হামলা চালায়। হামলার পর পুলিশ তাদের বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় ইলহামের স্ত্রী ফাতিমা দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে আত্মঘাতী হয়,সেখানে পুলিশের তিন কর্মকর্তাও নিহত হয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে ইলহামের বিষয়ে এক খবর প্রকাশ করে। ওই খবরে বলা হয়, ইলহাম নিজের বাড়িতেই স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে। আত্মঘাতী এই সহোদরের বাবা মোহাম্মদ ইব্রাহীম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে শ্রীলঙ্কান পুলিশ।

ইনসাফ ইব্রাহীমের যে কারখানায় বাংলাদেশি শ্রমিকরা কাজ করতেন, সেটি কলম্বোর উপশহর ওয়েল্লাম্পিটিয়া এলাকায় অবস্থিত। বাংলাদেশি ছাড়াও সেখানে ভারতীয় অন্তত ৪০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। বোমা হামলার পর তারাও নিজ দেশে ফিরে গেছেন। কারখানার কর্মীদের বরাত দিয়ে বৃটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, ঘটনার পর থেকে পুলিশ প্রায় প্রতিদিনই ওই কারখানায় অভিযান চালিয়েছে। কোলোসসাস লিমিটেড নামে তামার ওই কারখানার শ্রীলঙ্কান স্টাফ ও সুপারভাইজাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

শ্রীলঙ্কায় স্মরণকালের ভয়াবহ ওই বোমা হামলার পর থেকে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। গত কয়েকদিনে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক বৈঠকে বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার সম্ভাব্য শঙ্কা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জঙ্গি হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেন এবং তা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখার কথা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন বলেও জানান।

জেড