আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জামালপুর জেলায় কোরবানির হাট জমজমাট হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণের শতকরা ৫০জনই কোরবানির পশু কিনে ফেলেছেন। বাকী ৫০জন গরু ছাগল কিনতে এখন একহাট থেকে অন্যহাটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যাচাই বাছাই করছেন দরদাম নিয়ে। সুযোগ পেলেই কিনে নিচ্ছেন পছন্দের গরু বা ছাগলটি।

জামালপুর জেলায় সাধারণত গরু ও ছাগল কোরবানি হয়ে থাকে। মহিষ কোরবানির সংখ্যা খুব কম। কিছুটা দাম পেতে জেলার পাইকাররা রাজধানীসহ দেশের নানাপ্রান্তে ট্রাক ভর্তি করে গরু-মহিষ নিয়ে যাচ্ছেন।

jamalpur goru pic-01-

জেলা সদর ছাড়াও সাত উপজেলায় শতাধিক স্থানে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের হাট বসানো হয়েছে। এর মধ্যে সদরের ঐতিহ্যবাহী নান্দিনা বাজার, হামিদপুর বানার ব্রিজ সংলগ্ন বালুর মাঠ, বাগেরহাটা বাজার, কেন্দুয়া কালিবাড়ী, জামালপুর-শেরপুর ব্রিজ সংলগ্ন বাজার, শ্রীপুর কুমারিয়া, বারুয়ামারী, গোপালপুর, ভারুয়াখালী বাজার, হাজিপুর, গাজিপুর, তুলসীপুর বাজারে গরু ছাগলের হাট বসানো

হয়েছে। এছাড়াও মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, বকশীগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর ও সরিষাবাড়ী উপজেলায় কোরবানির পশু ক্রয়বিক্রয়ের প্রধান প্রধান হাট বসানো হয়েছে। ইজারাদার গত এক সপ্তাহ আগে থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা ও থাকা খাওয়ার সু-ব্যবস্থা করে পোস্টারিং ও মাইকিং এ ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, জেলায় এবার ভারতীয় গরুর আমদানি খুব কম। দেশি গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। গ্রামাঞ্চলের এক শ্রেণীর কৃষক ভালো দাম পাওয়ার আশায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করেছেন।

লক্ষ্মীরচর এলাকার কৃষক আজাহার আলী জানান, আমি গত দুই বছর ধরে তিনটি ষাঁড় গরু লালন পালন করে বিক্রির জন্য হাটে তুলেছি। প্রতি বছর আমার একটি গরুর পেছনে সর্বমোট ১০ থেকে ১২হাজার টাকা খরচ হয়েছে।বর্তমানে একেকটি গরু ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রির আশা করছি।

তুলশীরচর ইউনিয়নের গারামারা এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলী ও বাকচর গ্রামের কৃষক আবেদ আলী জানান, আমাদের এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়ীতে কোরবানির গরু রয়েছে। বছরের পর বছর সবুজ ঘাস, খৈল, ভুষি, খড়, লবন পানি খাইয়ে গরুগুলোকে তরতাজা করে তোলা হয়েছে। আশা করছি এবার প্রত্যেক গরুর দাম ভালো পাব।

এদিকে গতকাল শুক্রবার নান্দিনা বাজার ঘুরে দেখা গেছে এখানে পর্যাপ্ত সংখ্যক গরু, ছাগল ও মহিষের আমদানি হয়েছিল। ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচেপড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। এক বেসরকারী তথ্যে জানা গেছে গতকাল শুক্রবার নান্দিনা বাজারে পার্শ্ব লক্ষ্মীরচর, তুলশীরচর, শেরপুর, জামালপুর, কেন্দুয়া, হাজিপুর, গাজিপুর, শ্রীপুর, শরিফপুর, ছনকান্দা প্রভৃতি এলাকা থেকে কমপক্ষ্যে পাঁচ হাজার গরু, ছাগল ও মহিষের আমদানি হয়েছিল।

৪০ হাজার টাকা থেকে ৮০ হাজার টাকা দামের গরু বেশি বিক্রি হয়েছে। লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের ভাটিগজারিয়া গ্রামের গরু বিক্রেতা স্বপনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, মাত্র পনের হাজার টাকা দামের একটি ষাঁড় আমি গত তিন বছর ধরে লালন পালন করেছি। এটি নান্দিনা বাজারে বিক্রির জন্য এনেছি। মোটাতাজাকৃত আমার গরুটি দাম আমি দুই লাখ হাঁকিয়েছি। এক ক্রেতা একলাখ ১০ হাজার টাকা বলেছিল। আরেক ক্রেতা এক লাখ ২০ হাজার বলেছিল। কিন্তু বিক্রি করিনি। দেড় লাখ টাকার মধ্যে হলে বিক্রি করব আশা করছি।

আলগীরচর থেকে ছোরহাব আলী নামে আরেক ক্রেতা জানান, আমি দুটি গরু বিক্রির জন্য এখানে এনেছি। দুটির দাম দুই লাখ হাকিয়েছি। এক ক্রেতা দুই গরুর দাম ৬০হাজার করে মোট একলাখ ২০ হাজার বলেছে। কিন্তু এখন বিকেল (পাঁচটা) পর্যন্ত বিক্রি করিনি। খড়খড়িয়া থেকে এক গরু ক্রেতা জানান, আমি ৭২ হাজার টাকায় একটি ষাঁড় কিনেছি। আমার কাছে এই গরুর দাম ৫০ হাজারের বেশি নয়। কিন্তু বাজারে গরুর দাম অত্যাধিক বেশি হওয়ায় বেশি দামে কিনতে হলো।

একাধিক ক্রেতা জানান, গতবারের চেয়ে এবার গরুর দাম বেশি। গতবার যে গরু ৪০ হাজার টাকায় কিনতে পাওয়া গেছে এবার সেই গরুর দাম ৬০ থেকে ৬৫ হাজায় ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে। ছাগলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে ৬ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা দামের ছাগল বেশি বিক্রি হয়েছে।

নান্দিনা গো-হাটার ইজারাদার মো: ফজলুল হক জানান, ঐতিহ্যবাহী নান্দিনা বাজার গরুহাটিতে জালনোট সনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাছাড়া ভালো মানের পশু ক্রয় বিক্রয়ের জন্য জনসচেতনায় উপজেলা প্রাণী সম্পদক বিভাগ পদক্ষেপ নিয়েছে। ঈদে ক্রেতা বিক্রেতাদের সুবিধার্থে আগামী সোমবার নান্দিনা বাজারে বিরাট গরুর হাট বসানো হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জামালপুর পুলিশ সুপার নিজাম উদ্দিন বলেন, প্রত্যেক গরুহাটে ক্রেতাবিক্রেতাদের নিরাপত্তায় আমাদের পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন এবং খোঁজ খবর রাখছেন।

এমবিএইচ