যমুনার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন শুরু হওয়ায় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ও সাঘাটা সদর ইউনিয়নে শতাধিক বাড়িঘর-স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
এছাড়া ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে নদী তীরবর্তী শত শত পরিবার। ভাঙনের শিকার গ্রামগুলো হলো, হলদিয়া ইউনিয়নের পাতিলবাড়ি, দিঘলকান্দি, গোবিন্দপুর, বেড়াগ্রাম, হলদিয়া এবং সাঘাটা সদর ইউনিয়নের গোবিন্দি, বাঁশহাটা, হাটবাড়ি, কামারপাড়া ও বরমতাইড় গ্রাম।স্থানীয়রা জানান, সদর ইউনিয়নের গোবিন্দী ঈদগাহ মাঠ ও কবরস্থানসহ দক্ষিণ দীঘলকান্দি গুচ্ছ গ্রামের ৯টি ঘর নদীগর্ভে চলে গেছে।
এদিকে, গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়, গোবিন্দপুর নলছিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও কানাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসার তৃতীয় তলা ভবন নদী ভাঙনের মুখে রয়েছে।
সাঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান (ইউপি) মোশারফ হোসেন সুইট জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অবহেলায় গোবিন্দিতে নদী ভাঙন কোনো ভাবেই বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। যে সময়ে কাজ করার কথা ছিল সেই সময় যদি এ ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হতো তাহলে গোবিন্দী কবরস্থান ও ঈদগাহ মাঠ নদী গর্ভে বিলীন হতো না।
এদিকে, যমুনা নদীর ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বরাবরে বার বার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার আসেনি বলে অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাইবান্ধা নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল মিয়া জানান, উল্লেখিত ভাঙন কবলিত এলাকায় অর্থাভাবে কোনো প্রকল্প গ্রহণ সম্ভব হয়নি। অর্থ পাওয়া গেলে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো জানান, যমুনা নদীর ভাঙন থেকে উপজেলার সাঘাটা বাজার, সাঘাটা থানা ভবন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।এতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা।
এই টাকা দিয়ে যমুনা নদীর চার দশমিক আট কিলোমিটার এলাকায় সিসি ব্লক, বালুভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলে সাঘাটা বাজারের উত্তরে মুন্সিরহাট থেকে দক্ষিণে চিনিরপটল পর্যন্ত তীর সংরক্ষণ কাজ চলছে।
এআই/





