স্ত্রী-সন্তানের অধিকার ফিরে পাওয়া ও নির্যাতনের বিচার চেয়ে স্ত্রী জান্নাত আরা সোনিয়ার দায়ের করা মামলায় স্বামী হিসাম হোসেন ও তার বাবা আজিজুল হককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার দুপুরে তারা মাগুরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইমতিয়াজুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
সোনিয়ার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০০৭ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় মাগুরা সদর উপজেলার বেলনগর গ্রামের মো. হিসাম হোসেন নামে এক যুবক ছলচাতুরি করে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে তার না বোঝার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় এক মসজিদে কালেমা পাঠের মাধ্যমে তার সঙ্গে বিয়ের নাটক করে তাকে নিয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করে। এক পর্যায়ে ২০১১ সালে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। এরপর থেকে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে মাগুরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া করে বসবাস করেন। কিন্তু গত ৬ জুলাই সোনিয়া তার স্বামীর বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী ও সন্তানের অধিকার দাবি করলে সেখান থেকে স্বামী হিসাম ও তার পরিবারের লোকজন তাকে মারপিট করে বের করে দেয়। এ সময় অসুস্থ অবস্থায় সোনিয়াকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার গর্ভে থাকা দ্বিতীয় সন্তানটি নষ্ট হয়ে যায়। এ ঘটনায় সোনিয়া মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করেন।
সোনিয়া জানান, গত ২ আগস্ট মাগুরা প্রেসক্লাবে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক সংবাদ সম্মেলন করে স্বামী ও সন্তানের অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবি জানান তিনি। এ সময় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে হিসামকে ফোন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।
দীর্ঘদিন পালাতক থাকার পর আজ দুপুরে হিসাম ও তার বাবা আজিজুল হক মাগুরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কেএইচ





