সিলেটের বিয়ানীবাজারে সরকারি কলেজে ছাত্রলীগ কর্মী খালেদ আহমদ লিটু হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ৪ ছাত্রলীগ কর্মীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) দুপুর দুইটায় আসামিদের আদালতে তোলা হলে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা শাকিলা চৌধুরী সুমু তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে কলেজে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক পাভেল মাহমুদের অনুসারীদের সঙ্গে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবুল কাশেম পল্লবের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ২৫ বছর বয়সী খালেদ আহমদ লিটুসহ পাভেলের পক্ষের কয়েকজন কলেজের একটি কক্ষে বসে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন এসে তাদের দিকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

পুলিশ লিটুর মরদেহ উদ্ধার করে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুম আহমদ জানান, মাথায় গুলি লাগায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। পরে সোমবার মধ্যরাতে সাতজনকে আসামি করে বিয়ানীবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন নিহত লিটুর বাবা খলিল উদ্দিন।

বিয়ানী বাজার থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, রাতে খালেদ আহমদ লিটুর লাশ দাফনের পর তার বাবা খলিল উদ্দিন বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। আসামিরা হলেন- কামরান, ফাহাদ , এমদাদুর, দেলোয়ার হোসেন মিষ্টু, সাহেদ, শিপু এবং কাউসার। তারা সবাই পাভেল গ্রুপের ছাত্রলীগ কর্মী।

ওসি জানান, এদের মধ্যে ঘটনার পরই আটক কামরান, ফাহাদ ও এমদাদুরকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এছাড়া মামলার পরই আসামিদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এসময় গ্রেফতার করা হয় দেলোয়ার হোসেন মিষ্টুকে। আর বাকীদের কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

তবে সাহেদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি রামদা উদ্ধার এবং রাতে অভিযানের সময় কলেজের সামনের এক সবজি বিক্রেতার মাচাংয়ের নীচ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি রিভলবার উদ্ধার করা হয়েছে। তবে লিটু খুনের ঘটনায় এই রিভলবার ব্যবহার হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত নয় পুলিশ।লিটু কসবা নয়াটিলা এলাকার খলিল উদ্দিনের ছেলে।

এদিকে ঘটনার পর আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া উপাধ্যক্ষকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে

এমই