ভূমিকম্পে সারা দেশে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৫ জনে। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে রাজধানী ঢাকা, রাজশাহী ও লালমনিরহাট ও সিরাজগঞ্জে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ভূমিকম্পের সময় অজ্ঞান হয়ে পরবর্তীতে মারা গেছেন জামালপুরের ইসলামপুরের একজন।

বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর ৫টা ৫ মিনিটে ভারতের মনিপুরের রাজধানী ইমফলের ২৯ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে তামেংলং জেলার ননি গ্রামে ৬.৭ মাত্রার এ ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ৫৫ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ৩৫২ কিলোমিটার। ভূমিকম্পে বাংলাদেশও প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠে।

ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে রাজধানী ঢাকায় বাসা থেকে নামতে গিয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আতিকুর রহমান (২২) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

আতিকুর রহমান ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পূর্ব জুরাইনের ৯৫৬ নম্বর বাসার একটি মেসে তিনি ভাড়া থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুরে। বাবার নাম মঈন উদ্দিন।

এ ছাড়া ভূমিকম্পে রাজধানীতে কমপক্ষে ৩০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।

আর বেশ কয়েকজন ঢামেকে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ইকবাল হোসেন নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

লালমনিরহাটে ভূমিকম্পের সময় ঘুম থেকে উঠে ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে আতঙ্কে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে জেলার পাটগ্রাম উপজেলার ঘোনাবাড়ী এলাকার নূর ইসলাম কদু (৫০) নামের এক মুদি ব্যবসায়ী মারা যান।

তিনি পাটগ্রাম উপজেলার ঘোনাবাড়ী কদুর বাজার এলাকার মৃত নজর উদ্দিনের ছেলে।

ভূমিকম্পনের ফলে লালমনিরহাট জেলার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সকলে ঘুম থেকে উঠেই ঘর থেকে বাইরে বেড়িয়ে আসেন।

পাটগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শাহ জামাল বলেন, ঘোনাবাড়ী এলাকার মুদি ব্যবসায়ী নূর ইসলাম কদু ভূমিকম্পনের সময় ঘুম থেকে উঠে আতঙ্কে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এ সময় মাথা চক্কর দিলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম বলেন, ‘আমরা শুনেছি উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের ঘোনাবাড়ী এলাকার নূর ইসলাম কদু ভূমিকম্পনের আতঙ্কে ঘর থেকে বের হওয়ার পর মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যান। বিষয়টি আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।’

এ ছাড়া, রাজশাহীতে ভূমিকম্পে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের প্রধান বাবুর্চি খলিলুর রহমান (৬৫) ভূমিকম্পে আতঙ্কে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।

এমকে/এআই