১৪ বছর পর কিশোরগঞ্জে আসছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার আগমন উপলক্ষে জেলাটি এখন তোরণের শহরে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় দলের চেয়ারপারসনকে শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানাতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। ভৈরব থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা শহর পর্যন্ত ৫৭ কিলোমিটার মহাসড়ক যেন তোরণে তোরণে সয়লাব হয়ে গেছে।
জনসভার ২৪ ঘণ্টা আগেও সমাবেশের স্থান গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠের প্রস্তুতিতে রয়েছে দৈন্যদশার ছাপ। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মঞ্চ নির্মাণের জন্য খোঁড়াখুঁড়িতে ব্যস্ত রয়েছেন ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী ডেকোরেটর ‘বসন বিচিত্রা’র কর্মীরা। আর পুরো বিষয়টি তদারকিতে ব্যস্ত রয়েছেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর (সিএসএফ) কর্মকর্তারা।
গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠের দক্ষিণ-পূর্বকোণে এক থেকে দেড়শ লোক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন মঞ্চের কাজই শেষ করতে পারেনি মঞ্চকর্মীরা। মাঠজুড়ে ২০/২৫টি মাইক লাগানো হয়েছে। কিন্তু মাঠের প্রস্তুতির কাজ সম্পূর্ণ হয়নি দুপুরেও।
সিএসএফ কর্মকর্তারা মঞ্চ নির্মাণসহ পুরোমাঠের প্রস্তুতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের চেয়ারপারসনের যে কোনো বড় জনসভা শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে মঞ্চসহ পুরোমাঠ প্রস্তুত করে সিএসএফের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এখানে এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে। এখনও মঞ্চ এবং মাঠের ৫০ ভাগ কাজ শেষ করতে পারেনি আয়োজকরা।
এ বিষয়ে সিএসএফ কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান আনিস বলেন, মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে মঞ্চের নির্মাণকাজ শেষ করে আমাদের হাতে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল আয়োজকদের। কিন্তু তারা তা করতে পারেনি। সন্ধ্যার আগে তা পারবে কীনা বুঝতে পারছি না।
দুপুরে মঞ্চ ও মাঠ পরিদর্শনে আসেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এম ওসমান ফারুক। তিনি মঞ্চ ও মাঠের প্রস্তুতি সম্পর্কে বলেন, আমি মঙ্গলবার সকালের মধ্যে মঞ্চ ও মাঠের কাজ শেষ করে সিএসএফের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য কমিটিকে তাগিদ দিয়েছিলাম। কিন্তু এসে দেখলাম কাজের মাত্র ৫০ ভাগ শেষ হয়েছে। তবে আমি সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে থেকে পুরো কাজ শেষ করিয়ে যাব। আশা করছি সন্ধ্যার আগেই মঞ্চ ও মাঠের দায়িত্ব সিএসএফের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া যাবে।
মূল আয়োজনে নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলেও চেয়ারপারসনের দৃষ্টি আকর্ষণে শত শত তোরণ নির্মাণ করে তাতে স্থানীয় নেতারা বড় বড় ছবি টানিয়ে দিয়েছেন। এমনকি রাস্তার দুই পাশে, জনসভার মঞ্চ ও মাঠের চারদিকে বড় বড় বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও বাহারি পোস্টার শোভা পাচ্ছে। এগুলোতে বড় বড় অক্ষরে লেখা আছে, ‘খালেদা জিয়ার আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম।’
ভৈরব থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা শহর পর্যন্ত দীর্ঘ ৫৭ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে প্রায় ৬২০টি তোরণ নির্মাণ করেছে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবির পাশে স্থানীয় বিএনপির র্শীষপর্যায়ের নেতাদের বড় বড় ছবি লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জেআই





