চুয়াডাঙ্গার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি নাগরিক নাজিম উদ্দীনের (৩৪) লাশ ফেরত দিয়েছে ভারত।

শুক্রবার (০৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে দর্শনার নিমতলা আন্তর্জাতিক জয়নগর চেকপোস্টের জিরো পয়েন্টে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকের পর নিহত নাজিমের লাশ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ।

পতাকা বৈঠকের সময় বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- খালিশপুর-৫৮ বিজিবির ধোপাখালী বিওপি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার রেজাউল করিম, জীবননগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফেরদৌস ওয়াহিদসহ ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

আর ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- গেদে বিএসএফ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসি সৌরভ সামন্তসহ ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

৫৮ বিজিবি’র সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাংলাদেশি নাগরিক নিহতের ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ ও লাশ ফেরত চেয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএসএফের কাছে পত্র পাঠানো হয়। এরপর বিএসএফ নিহতের লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করে।

জীবননগর থানার পরিদর্শক (ওসি) তদন্ত ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, বিজিবির কাছে নিহত নাজিমের লাশ হস্তান্তরের পর পুলিশের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তির পরিবারের কাছে রাতেই ওই লাশ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে, নিহত নাজিমের লাশ পরিবারের লোকজন গতকাল (শুক্রবার) রাত ১০টার দিকে পুলিশের কাছ থেকে গ্রহণ করে নিজ গ্রাম আকন্দবাড়িয়া গাঙপাড়ায় নিয়ে এলে গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ নাজিমের লাশ দেখতে ছুটে আসেন।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে আকন্দবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জানাজা শেষে মাঝপাড়া কবরস্থানে নাজিমের লাশের দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে নাজিম উদ্দীনসহ ৭-৮জন গরু ব্যবসায়ী দর্শনার নিমতলা সীমান্তে গেলে ভারতের গেদে বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে নাজিম উদ্দীন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে বিএসএফের সদস্যরা তার লাশ টেনেহিঁচড়ে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যান। এরপর বিএসএফ নিহতের লাশ কৃষ্ণনগর থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ওই দিনই কৃষ্ণনগর হাসপাতালে তার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

নাজিম উদ্দীন চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের আকন্দবাড়িয়া গ্রামের গাঙপাড়ার তরু মিয়ার স্ত্রীর প্রথম স্বামী জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া কাশিপুর গ্রামের আবুল কালামের সন্তান। তবে তালাকপ্রাপ্তা মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের পর নাজিম ছোটবেলা থেকে তরু মিয়ার কাছেই ছিলেন।

এমবি