চাঁদপুর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের একটি তেলের দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মীসহ ১৪ জন দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর রায়হান (২৩) নামের একজনের মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, বুধবার গভীর রাতে একটি ট্যাংকার থেকে বঙ্গবন্ধু সড়কে তিনতলা ভবনের নিচের এক তেলের দোকানে তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল। এ সময় হঠাৎ করে আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ট্যাংকার এবং ওই দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে দোকানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার ও তেলের ড্রামগুলো একের পর এক বিস্ফোরিত হতে থাকে। এতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এ সময় আতংকে আশপাশের বাসাবাড়ির লোকজন নিরাপদে আশ্রয় নেন।

খবর পেয়ে চাঁদপুর ও হাজীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের ৬টি ইউনিট তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাদের সহায়তা করে মডেল থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনতা। আগুনে ট্যাংকার, একটি মাইক্রোবাস ও বাসার আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জেলা প্রশাসক মো. আবদুস সবুর মণ্ডল, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবদুল হাই, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহাদাৎ হোসেন। চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়ালি উল্লাহ’র নেতৃত্বে একদল পুলিশও সেখানে ছুটে যায়।

জানা যায়, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ওই বাসায় বসবাসকারী তিনটি পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ছাদে আশ্রয় নেন। পরিস্থিতি ভয়াবহ দেখে দ্রুত ছাদ থেকে নামতে গিয়ে আগুনের লেলিহান শিখায় দোকানের মালিকসহ ১৩ জন দগ্ধ হন। তাদের সাহায্য করতে গিয়ে দগ্ধ হন ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী। এদের মধ্যে গুরুতর দগ্ধ তেল ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান (৫০), বাদশা (৪৫), মাসুদ (২৮), নূর মোহাম্মদ (২১) ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মী মজুমদার খোকনকে (৪০) প্রথমে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে।

বৃহস্পতিবার বিকালে ঢামেক হাসপাতাল বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন পার্থ শংকর পাল জানান, এখানে ভর্তি পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের ৯০ শতাংশের বেশি এবং দু’জনের ৫০ শতাংশের বেশি শরীর পুড়ে গেছে। ৯০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া মাসুদ, নূর মোহাম্মদ ও রায়হান আইসিইউতে রয়েছেন। ৫০ শতাংশ পোড়া মিজানুর রহমান ও বাদশার অবস্থাও আশংকাজনক।

এসএ