সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধোপাজান-চলতি নদীতে পাথর ভাঙার কাজে ব্যবহৃত অবৈধ বোমামেশিন বন্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যরা।
এতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারী, পুলিশ, সাংবাদিকসহ আহত ১০ জন হয়েছেন।
রোববার বিকাল চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০ ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিকাল চারটার দিকে ধোপাজান-চলতি নদীর আদাং এলাকায় বোমামেশিন বন্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদের নেতৃত্বে অভিযানে যান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় কয়েকটি বোমামেশিন আটক করে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়। এরপর হঠাৎ করেই এলাকাবাসী জড়ো হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান। হামলাকারীরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে থাকা পুলিশ ও অন্য কর্মকর্তাদের ওপর ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে।
এতে উপজেলা প্রশাসনের অফিস সহকারী আবদুর রকিব পাঠান, বিশ্বম্ভরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শেখর রঞ্জন পাল, কনস্টেবল আবু তালেব, কাউসার ও প্রদীপ বিশ্বাস, প্রশাসনের কর্মচারী সৈয়দ আহমদ, শ্রমিক সমর বিশ্বাস, সিরাজ মিয়া, মুজিবুর, বিশ্বম্ভরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন কুমার বর্মণ। আহত ব্যক্তিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
একই সময় নদীর পূর্ব পাড়ে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা অংশে অভিযান চালাচ্ছিলেন সদরের ইউএনও তাহসিনা বেগম। তাঁরা হামলার বিষয়টি দেখতে পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিশ্বম্ভরপুরের ইউএনওসহ অন্যদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
ইউএনও খন্দকার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ অভিযোগ করেন, অভিযান শেষ করে ফেরার পথে কয়েক শ লোকজন লাঠিসোঁটা, দা-রামদা নিয়ে হামলা চালান।
তিনি দাবি করেন, আদাং এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য করম আলীর উসকানিতেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি ওই নদীতে অবৈধ বোমামেশিন চালানোর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আহত না হলেও তাঁর পায়ে একটি ঢিলের আঘাত লেগেছে বলে জানান ইউএনও।
বিশ্বম্ভরপুর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুর রহমান জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০টি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ ব্যাপারে থানায় কোনো মামলা হয়নি।
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ





