পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’-এর প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে লালুয়া ইউনিয়নের নয়টি গ্রাম। ভেঙে যাওয়া বাঁধের চারটি অংশ দিয়ে দুই দফায় রাবনাবাদ নদীর জোয়ারের নোনা পানি প্রবেশ করায় ডুবে গেছে চারিপাড়া, ধঞ্জুপাড়া, বানাতিপাড়া, পশরবুনিয়া, চৌধুরীপাড়ার আবাদি জমি, বাড়ির আঙিনা, সবজি ক্ষেত ও পুকুর। নোনা পানিতে ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন কাজ। ডুবে গেছে ফসলের ক্ষেত। দেখা দিয়েছে, গো-খাদ্য ও গবাদি পশুর মিঠাপানির সংকট।

এদিকে পানিবাহিত রোগের মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে নয়টি গ্রামের ১০ হাজার মানুষ। কৃষি নির্ভরশীল পরিবারগুলোর মধ্যে বিরাজ করছে চরম হতাশা আর উৎকণ্ঠা।

কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জানান, পশরবুনিয়া ও চারিপাড়া বাঁধের ভাঙনে চারটি অংশ মেরামতের কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই।

এদিকে, রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ মিটার বাজার এলাকায় বেড়িবাঁধ ছুটে লোকালয়ে পানি ঢুকছে।

এদিকে, আজ মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে আঘাত হানার আশঙ্কা ক্ষীণ।

আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন আজ সকাল ১০টার দিকে বলেন, “ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িষা রাজ্যে এটি আঘাত হানতে পারে। তবে বাংলাদেশে আঘাত হানার আশঙ্কা ক্ষীণ। খুলনা উপকূলে এর কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে কমবেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।”

আবহাওয়াবিদ আরও জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৫২৫ কিলোমিটার, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৯০ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এটি আরও শক্তিমাত্রা অর্জন করতে পারে।

এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার। ঝড়ো হাওয়ার আকারে এর গতি ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া সাগর বিক্ষুব্ধ অবস্থায় রয়েছে।

এরই মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থান করা সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

এমআর