নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় কার্যত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নেই গত এক দশক ধরে। আওয়ামী লীগ নামাবলী গায়ে দিয়ে কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের গ্রুপ বানিয়ে নিজ নিজ ব্যানারে নিজের ইচ্ছামত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলেও সেখানে বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে কেন্দ্র কিংবা জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশ।

যার পরিপ্রেক্ষিতে শত সম্ভাবনা থাকার পরও বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত সেনবাগে আওয়ামী লীগ কোন অবস্থান তৈরি করতে পারছে না। গত ৯ বছর ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। স্থানীয় পর্যায়ে একটি দলকে সুসংহত করার জন্য এটা একটা বিশাল সময় ছিল। কিন্তু স্থানীয় নেতৃত্ব নিজেদের গ্রুপিংয়ের রাজনীতি চর্চ্চা করতে গিয়ে সার্বজনীনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে আওয়ামী লীগ দলকে। বর্তমান সময়ে সেনবাগের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগের শত্রু। এ হলো সেনবাগের সামগ্রিক আওয়ামী রাজনীতির অবস্থা।

অনেক নাটক ঘাত-প্রতিঘাতের পর দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে জেলা আওয়ামী লীগ একটি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করে। এ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিকে ঘিরে দলের বিবাধমান একাধিক গ্রুপের মোরশেদ আলম এমপি, আতাউর রহমান ভূইঁয়া মানিক ও ড. জামাল উদ্দিন একত্রিত হন। তারা দলের স্বার্থে একাধিক বৈঠকেও মিলিত হন। এ তিন নেতার সর্বসম্মত সম্মতিতে ২৪ মার্চ ৭নং মহাম্মদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভা আহ্বান করা হয়েছিল এবং ২৫ মার্চ সেনবাগ সরকারি কলেজের বিদায়ী ছাত্রছাত্রীদের জন্য মিলাদ মাহফিলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

২৪ মার্চ মহাম্মদপুরের আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় যথারীতি মোরশেদ আলম এমপি,আতাউর রহমান ভূইয়াঁ, মানিকসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শুরু হলে ছাত্রলীগের ননইস্যুকে ইস্যু বানিয়ে বর্ধিত সভাটি পণ্ড করা হয়। প্রায় একইভাবে পরের দিন সেনবাগ সরকারি কলেজের মিলাদ মাহফিলটি পণ্ড হয়। যেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ মোরশেদ আলম উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

সেনবাগের একাধিক রাজনৈতিক সূত্র দাবি করছে অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মী থাকার পরও কতিপয় ব্যক্তির ইচ্ছার কাছে দল যেন জিম্মি। এদের কাছে জেলা আওয়ামী লীগ কিংবা ওবায়দুল কাদের কোন বিষয় না। নিজেদের স্বার্থই বড় বিষয়। তা না হলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের জেলায় একটি উপজেলা সেনবাগের রাজনীতির এমন ত্রাহি অবস্থা কেন?

সূত্র মতে জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে সেনবাগে দেখা গেছে,কোন ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করলে সেনবাগের বাকী নেতারা তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে অর্থ পর্যন্ত ব্যয় করে থাকেন। যা দেখা গেছে ড. জামাল উদ্দিনের নির্বাচনের সময়। অভিযোগ রয়েছে ৯১ এবং ৯৬ এর আওয়ামী লীগ দলীয় পরাজিত প্রার্থীসহ তার সমর্থকরা ড. জামালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। যা দলের হাই কমান্ড পর্যন্ত অবগত আছেন।

যার প্রেক্ষিতে সেনবাগের সব গ্রুপিং মার্কা নেতাদের বাদ দিয়ে গত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করা হয় আলহাজ মোরশেদ আলমকে। দলের জেলা কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা হয় এ নির্বাচনী এলাকার আরেক তারুণ্যদীপ্ত নেতা বিশিষ্ট সমাজসেবক আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিককে। প্রথম দিকে সেনবাগের কতিপয় নেতা নিজেদের প্রয়োজনে মোরশেদ-মানিকের বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করলেও শেষতক এ দু’নেতার দূরদর্শিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

তারুণ্যদীপ্ত নেতা আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক মোরশেদ আলমের কাঁধে কাঁধ রেখে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। মোরশেদ আলমও পর্যাপ্ত সময় দিচ্ছেন দলকে। রাজনৈতিক সূত্র বলছে সেনবাগে আওয়ামী রাজনীতি পুনঃগঠন করতে হলে নেতৃত্বের মাধ্যমেই সেনবাগ আওয়ামী লীগকে পুনঃগঠন করতে হবে। অন্যথায় যতই চেষ্টা করা হউক না কেন সেনবাগ আওয়ামী লীগের চলমান কর্মকাণ্ড পথকে সুগম করবে না।

টাইম নিউজ.নেট/ রফিক আনোয়ার/ মাহমুদ