যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়তে শুরু করায় গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন আতঙ্কে ভুগছেন বাসিন্দারা।

ভাঙনের পরিধি ক্রমেই বাড়তে থাকায় ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্কুল, মসজিদ-মাদ্রাসা ভেঙে অন্যত্র নিরাপদে সরিয়ে নিচ্ছেন তারা।

ভাঙনের মুখে পড়ায় ভবনের টিনের চালা ও আসবাবসহ সরিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে উপজেলার উত্তর খাটিয়ামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে ওই স্কুলের ৪৩৩ জন শিক্ষার্থীর লেখাপড়ায় দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার প্রায় ১৫টি পয়েন্টে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভাঙনকবলিত এলাকা হচ্ছে ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের চন্দনস্বর, উত্তর খাটিয়ামারী, পূর্ব খাটিয়ামারী, পশ্চিম খাটিয়ামারী, কুচখালী, কাউয়াবাঁধা গ্রাম।

এছাড়া নদীর পানি বাড়তে থাকলে ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের সিংড়িয়া, উড়িয়ার রতনপুর, কালাসোনা, গজারিয়ার কামারপাড়া, জিয়াডাঙ্গা, কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের রসুলপুর, পূর্ব কঞ্চিপাড়া, জোড়াবাড়ি, সাতারকান্দি, ফজলুপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর ও খাটিয়ামারী গ্রাম এবং সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দী ও গজারিয়া ইউনিয়নের জিয়াডাঙ্গা গ্রাম ও ঘুরিদহ ইউনিয়নের চিনিরপটল হলিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে ভাঙনের সম্ভাবনা রয়েছে।

ফুলছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাঈদ জানান, নদীভাঙনের ফলে উত্তর খাটিয়ামারি স্কুলের ৪৩৩ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গৃহহীন পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে শত শত পরিবার, স্কুল, আদর্শ (গুচ্ছ) গ্রামসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এসব এলাকার লোকদের এখন একমাত্র ভরসা অন্যের বাড়িতে বা ওয়াপদা বাঁধে আশ্রয়।

ভাঙনকবলিত উত্তর খাটিয়ামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্কুল অন্যত্র সরানোর ব্যবস্থা করছি। তবে পাঠদান করার চেষ্টা করছি। খোলা আকাশের নিচে বা টিনের চালা দিয়ে ঘর তুলে সাধ্যমতো পাঠদান অব্যাহত রাখব।

এআই