প্রতিষ্ঠার ৩১ বছরে পাঁচ হাজার দরিদ্র পথশিশু সংগীত শিক্ষা তো পেয়েছেই, তাদের মধ্যে ১৮১ জন মেধাবি শিশু পেয়েছে জাতীয় পর্যায়ে নানা পুরস্কার। গরিব শিশুদের সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রংপুরের পাগলাপীর শিশু সংগীত বিদ্যালয়।

বিনা বেতনে সংগীত শিক্ষা বিস্তারে অনবদ্য ভূমিকার জন্য রংপুর অঞ্চল ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশে সুনাম কুড়িয়েছে এই বিদ্যালয়। পেয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এর মধ্যে ১১ জন শিশু জাপান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইনসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গণে শিশু সংগীত উৎসবে যোগ দিয়ে উজ্জ্বল করেছে দেশের মুখ। সংগীত অঙ্গণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অর্ধশতাধিক শিল্পী।
৫ জন দরিদ্র পথশিশু নিয়ে ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করে পাগলাপীর শিশু সংগীত বিদ্যালয়। বর্তমানে ৭৫ জন শিশু এই বিদ্যালয়ে সংগীত চর্চা করে। রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উৎসব ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এই শিশু শিল্পীরা অপরিহার্য। ৩১ বছর বিনা পারিশ্রমিকে হাজার হাজার শিশুকে সংগীতের আলোয় আলোকিত করে এবং লাখো মানুষের চিত্ত জয় করে প্রতিষ্ঠাতা প্রশিক্ষক রমজান আলী পেয়েছেন আব্বাছ উদ্দিন পদক, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি পদক আর অনেক সম্মাননা। সাদা মনের মানুষ হিসেবে পেয়েছেন পরিচিতি।

বিদেশে শিশু সংগীত উৎসবে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন শিল্পী ও তাদের অভিভাবকরা জানান, এই সংগীত বিদ্যালয়ের সুনাম ছড়িয়ে পড়ায় তারা গর্বিত।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি রায়হান হোসেন সাজু বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের সহায়তায় জমি বরাদ্দ হয়েছে। কয়েকটি আধাপাকা ভবনও নির্মিত হয়েছে। কিন্তু সংস্কারের অভাবে ভবনে ধরেছে ফাটল। সংগীত বিদ্যালয়ের জন্য নূন্যতম সুযোগ-সুবিধা এখানে নেই।’ তিনি স্থায়ী কমপ্লেক্স নর্মাণে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

যার অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ এই বিদ্যালয় খ্যাতি অর্জন করেছে তিনি সংগীত সাধক রমজান আলী সরকার, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১০ বছর বয়সে তিনি পিতা-মাতা হারান।
সংগীত পিপাসু রমজান আলী সরকার সিরাজগঞ্জে ওস্তাদ মকবুল হোসেনের কাছে তালিম নিয়েছেন। তিনি বেতার ও টিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী। একসময় তিনি টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর থেকে রংপুরে চলে আসেন এবং এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। নিজ উদ্যোগে দরিদ্র ও এতিমদের জন্য গড়ে তোলেন শিশু সংগীত বিদ্যালয়। তিনি জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত সংগীত সাধনার মাধ্যমে মানুষের সেবা করতে চান। সংগীতের আলো ছড়িয়ে পড়–ক সারা দেশে- এটাই তার কামনা।

এখানকার শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
সংগীত বিদ্যালয়টিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টরা সবার পৃষ্ঠপোষকতা কামনা করেছেন।

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই