শুধু মাত্র চালকদের দক্ষতা অর্জন করলে হবেনা সাথে সাধারণ মানুষ, যাত্রীসহ সকলকে দক্ষতার প্রয়োজন। তাহলেই সড়কে দুর্ঘটনা কমবে।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করনীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহ জাহান খান এসব কথা বলেন।

শাহ জাহান খান বলেন, ট্রাফিক পুলিশের আরও প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলতে হবে। অনেক দুর্ঘটনা ট্রাফিক পুলিশের কারনেও হয়ে থাকে।

তিনি আরও বলেন, যে সকল প্রকৌশলী গাড়ির বডি তৈরী করেন তাদের দক্ষতার অভাব আছে। তারা সতঠিক ভাবে গাড়ির বডি তৈরী করতে পারেনা। দেখা যায় তারা যে বডি তৈরী করে তার অনেক ত্রুটিপুর্ব এর কারনে ড্রাইভার গাড়ির যে সঠিক মাপ আছে তা বুঝতে পারেনা বলেই অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা গটে।

শাহ জাহান খান আরও বলেন, সড়ক ব্যবস্থায় যে সকল দুর্বলতা আছে তা ক্ষতিয়ে দেখতে হবে। মহা সড়কের পাশে যে সকল বাজার আছে তা সরিয়ে নিতে হবে তাহলে দুর্ঘটনার অনেক হার কমবে।

তিনি দুঃখ করে বলেন, সরকার সকল সেক্টরে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য অনেক অর্থ ব্যয় করে থাকে কিন্তু ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। যদি অন্যান্য সেক্টরের মতো এই সেক্টরে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হতো তাহলে দেশে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থান আরও উন্নত হতো।

তিনি আরও বলেন, দেশে ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নাই, যদি আইনের যথাযথ প্রয়োগ থাকতো তাহলে সড়ক মহাসড়কে এতো অরাজকতা হতোনা।

শাহ জাহান খান বলেন, বি আর টি এর এতো জায়গা নাই যে তারা সকল গাড়ির পরীক্ষা করে পিটনেস দিবে। দেশে বর্তমানে ৩৮ লক্ষ গাড়ি এবং ২৫ লক্ষ মোটরসাইকেল আছে। জায়গার অভাবে এতো পরিমান গাড়ির পিটনেস দিতে বি আর টির হিমসিম খেতে হচ্ছে।

সড়ক দুর্ঘটনা রােধে করনীয় প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এর পক্ষ থেকে ১৬টি প্রস্তাব করা হয়
১ । মানসম্মত ড্রাইভিং স্কুল প্রতিষ্ঠা , দক্ষ চালক তৈরি এবং উপযুক্ত ড্রাইভিং ইন্সট্রাক্টর তৈরির জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা।
২ । পেশাদার চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের আয়ােজন করা।
৩। সকল যানবাহন যাত্রা শুরুর পূর্বে গাড়ি ও চালকের কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা , গাড়ির নিরাপত্তা উপাদান ( লাইট , ব্রেক , টায়ার , ফ্লুয়িড ) নিশ্চিত করা , চালকের শারীরিক মানসিক অবস্থা ভাল আছে কিনা তা নিশ্চিত করা ।

৪ । চালকদের মজুরি কাঠামাে নির্ধারণ করা , নিয়ােগ পত্র , পরিচয় পত্র প্রদান করা । দুরপাল্লার বাস ও ট্রাকে প্রতি ৫ ঘণ্টা পর পর বিশ্রাম ও ৮ ঘণ্টা পর বিকল্প চালকের ব্যবস্থা করা । গাড়ি চালকদের জন্য মহাসড়কে বিশ্রামাগার স্থাপন করা ।
৫ । দেশের সকল সড়কে প্রয়ােজনীয় সাইন , মারকিং , স্ট্রিট লাইটের ব্যবস্থা করা ।
৬ । সড়কে , মহা সড়কে যাত্রী উঠা নামার জন্য বাস স্টপেজ বা বাস - বে , যাত্রী ছাউনি স্থাপন করা ।
৭ । দুর্ঘটনা প্রবণ স্থান সমূহ চিহ্নিত করে প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা , চালকের দৃষ্টিকে বাধাগ্রস্থ করে এমন স্থাপনা ও গাছপালা অপসারন করা ।
৮ । শহরের ভেতর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল স্থাপন না করা ।
৯ । মহাসড়কের পাশে বাজার , স্থাপনা নির্মাণ না করা , স্থাপনা থাকলে তা অপসারন বা প্রয়ােজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা ।
১০ । বাস , ট্রাকের নিধারিত কারিগরি ডিজাইনের পরির্বতন নিষিদ্ধ করা ।
১১ । সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনা ।
১২ । ড্রাইভিং লাইসেন্স , গাড়ির প্রয়ােজনীয় কাগজ , রুট পারমিট , ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া গাড়ি চলাচল বন্ধে কঠোর হওয়া ।
১৩ । অতিরিক্ত গতিতে চলাচল , বিপজ্জনক ওভার টেকিং , ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করাকে কঠোর হাতে দমন করা ।
১৪ । ক ) সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদান করার নীতি অনুসরন করা দুর্ঘটনায় নিহত আহতদের ক্ষতিপূরণের মানদণ্ড দিদারুণ এবং ক্ষতিপূরণ প্রাদান করা।
খ ) হাইওয়ের পাশে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রমা সেন্টার স্থাপন করতে হবে ।
১৫ । সরকার বিভিন্ন সেক্টরে ভর্তুকি দেয় । কিন্তু এত বড় সেক্টর এর গুরুত্বপূর্ণ দক্ষ চালকধর জন্য সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে ।
১৬ । জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল ও সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষকে কার্যকর করা । যে কোন দুর্ঘটনায় অন্যকে দায়ী করে নিজের দায় এড়ানাের মানসিকতা পরিহার করা দরকার । সড়ক দুর্ঘটনা যেমন একটি সামগ্রিক দুর্বলতার ফল তেমনি দুর্ঘটনা রােধ করতে হলেও সামগ্রিক উদ্যোগ দরকার।


এসএম/এএস