সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জালিয়াতি ও কেন্দ্র দখলের ঘটনায় নির্বাচন ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষ আস্থা হারাবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলেছেন, এই নির্বাচন দেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটকে আরও বাড়িয়ে দেবে। যে নির্বাচন হয়েছে তা কারও প্রত্যাশিত ছিল না বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এই নির্বাচনে তিনটা জিনিসের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং নির্বাচনের ওপর মানুষের আস্থার ক্ষতি হয়েছে। নির্বাচনের এমন পরিবেশকে অকল্পনীয় আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এখন তো খণ্ড খণ্ড চিত্র পাচ্ছি। যা দেখলাম বিভিন্ন সংস্থা থেকে খবর আসছে। এতটাই অকল্পনীয় যে, এমনটি কেউ আশা করে না।
সিটি নির্বাচনে অনিয়মের ঘটনা রাজনৈতিক সঙ্কটকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক। তিনি বলেন, দোষগুণ বিশ্লেষণ না করেও এটা স্পষ্ট রাজনৈতিক সঙ্কট থেকে উত্তরণের যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল এই নির্বাচনে সেই সম্ভাবনা তিরোহিত হলো। গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক সঙ্কট তিরোহিত না হলে অচিরেই আমরা অর্থনৈতিক সঙ্কটে নিপতিত হবো। তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন জাতির জন্য একটা দীর্ঘস্থায়ী বড় ক্ষতির কারণে পরিণত হবে।
জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদ (জানিপপ) চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লোক প্রশাসন বিভাগ প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, ৩ সিটি নির্বাচনে যা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। ১৩ বছর নাগরিক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পেয়েও করতে পারেনি। তারা নির্বাচনে যা প্রত্যক্ষ করেছে তা ছিল অপ্রত্যাশিত। দুটি দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ফলে যেমন উৎসাহ- উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল বিএনপি নির্বাচন বয়কটের ফলে সেটি শেষ হয়ে যায়। তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের প্রভাব পড়লে যা হয় তাই হয়েছে এই সিটি নির্বাচনে। ইলেকশন কমিশনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসি তো রেফারির দায়িত্বে ছিল। মাঠে যদি খেলোয়াড়ই না থাকে তাহলে রেফারি কী করবে বা তার কী বা করার আছে।
টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইখতেখারুজ্জামান বলেন, এই নির্বাচনকে নিয়ে আমরা খুব আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু যা হয়েছে তাতে খুব হতাশ হয়েছি কিন্তু অবাক হয়নি। নির্বাচনে এক ধরনের ঝুঁকি ছিল এটা মাথায় নিয়ে কাজ করেনি ইসি ও প্রশাসন। দুটি দলের প্রার্থীরা যে প্রতিযোগিতায় নেমেছিল ইলেকশন কমিশন ও প্রশাসন সেটি ধরে রাখতে পারেনি।
আমি মনে করি এই নির্বাচনের পর এই সংকট আরও ঘণীভূত হবে। সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের জেতাতে হবে যে কোন উপায়ে প্রশাসনের এমন মনোভাব থেকেই হয়তো ভোটে এ ধরনের কারচুপি হয়েছে। বিএনপি যে ইস্যুতে নির্বাচন বয়কট করেছে সেটির একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। আমাদের নৈতিক জায়গার যে পতন হয়েছে সেটি আজকে ঘটনার মূল কারণ। এই নির্বাচনে কেন্দ্রীয় জাতীয় সংকট তৈরি হয়েছে তা কিছুটা দূর করা সম্ভব হতো।
এএইচ





