বিজিবি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, "মানবপাচার, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসী নির্মুল এবং অস্ত্র চোরাচারান বন্ধে এক সাথে কাজ করবে মায়ানমার-বাংলাদেশ। এজন্য মায়ানমারের সাথে স্বচ্ছ যোগাযোগের জন্য সীমান্তে লিয়াজোঁ অফিস খোলা হচ্ছে।"
বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর রাজধানীর পিলখানাস্থ প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
বিজিবি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, সম্প্রতি সীমান্তে মায়ানমার-বাংলাদেশের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মায়ানমার সফরের জন্য বিজিবি'র পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে আলোকে গত ১০ থেকে ১২ জুন কয়েক দফায় আলোচনা হয়। মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রেরিত ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নের্তৃত্ব দেন বিজিবি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। অপরদিকে মায়ানমার চিফ অব পুলিশের নের্তৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আলোচনায় অংশ নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি’র মহাপরিচালক বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধে উভয় দেশের মধ্যে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করছি যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা ফলপ্রসু হবে। তবে এ বিষয়টি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।
দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় মোট ৮টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৪ টি বিষয়ে জোরারোপ করা হয়েছে। তা হলো মানবপাচার, মাদক , সীমান্তে সন্ত্রাসী কার্যকরাপ এবং অস্ত্র চোরাচারান। এসব বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরা হয়। আলোচিত বিষয়গুলো সমাধানে মায়ানমারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করেছে বিজিপি।
মায়ানমারের পক্ষ থেকেও কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি তুলে ধরা হয়। তাহল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী গোষ্ঠি মায়ানমারে গিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সংঘটিত করে আবার ফিরে আসছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।
মায়ানমারের ন্যাচারাল রিসোর্স আনয়নে অবৈধভাবে বাংলাদেশীরা মায়ানমারে প্রবেশ করছে।
এক্ষেত্রে মায়ানমার সীমান্ত পুলিশ অবৈধভাবে বর্ডাস পারাপার রোধে বিজিবি'র সহযোগীতা চেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজিবি’র মহাপরিচালক আরও বলেন, বিশেষ করে ইয়াবার ব্যাপারে লোকেশন উল্লেখ করে পাচারকারীদের একটি লিস্ট বিজিপির হাতে ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে মায়ানমার সীমান্ত দিয়েই বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার হচ্ছে। এক্ষেত্রে মায়ানমার বিষয়টি অস্বীকার করলেও তা বন্ধে সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, বিজিবি নায়েক মিজান মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) না মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর সদস্যের গুলিতে নিহত হয়েছেন তা নিশিম্চত হওয়া যায় নি। তবে সীমান্তে এমন অনাকাক্ষিত হত্যাকাণ্ড বন্ধে বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে একটি লিয়াজোঁ অফিস নির্মাণ করা হচ্ছে।
ঢাকা, জেইউ, ১৯ জক জুন(টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ





