বরিশালের বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারীসহ ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২২ জন।

আজ (বুধবার) দুপুরে ডুবে যাওয়া ওই লঞ্চটি শনাক্তের পর তল্লাশি চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন ডুবুরিরা।

ঘটনার পরপরই সেখানে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে বিআইডব্লিউটিএ এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা।

সন্ধ্যা পর্যন্ত লঞ্চের নিখোঁজ যাত্রীদের মধ্যে ১৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বিআউডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানের দেয়া তথ্যানুযায়ী এরা হলেন, বানারীপাড়ার মজিবর রহমানের স্ত্রী কহিনুর বেগম (৪০), মজিদ মাষ্টারের স্ত্রী সালেহা বেগম (৬০), উজিরপুরের কেশবকাঠী এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আঃ রাজ্জাক (৭৫), বানারীপাড়ার সাঈদ আলীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৪৫), মৃতঃ চান্দু মিঞার স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৪৫), মৃতঃ ইসমাইল মোল্লার ছেলে মুজাম্মেল মোল্লা (৬২), রহিম হাওলাদারের স্ত্রী রেহানা বেগম (৩৫), উজিরপুরের মনিন্দ্রনাথ মল্লিকের ছেলে সুখদেব মল্লিক (৩৫), বানারীপাড়ার আবুল ঘরামীর ছেলে মিলন ঘরামী (৩২), মোঃ সাগর মীর (১৫), উজিরপুরের সিরাজুল ইসলামের ছেলে জয়নাল হাওলাদার (৫৫), বানারীপাড়ার আঃ মজিদ’র স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৫৫), উজিরপুরের সিদ্দিকুর রহমানের শিশু মেয়ে শান্তা (৭) এবং স্বরুপকাঠীর কামাল হোসেনের স্ত্রী হিরা বেগম।

এর মধ্যে সিদ্দিকুর রহমান ও তার স্ত্রী রোকসানা বেগম বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সন্ধ্যা নদীর বানারীপাড়া লঞ্চ ঘাট থেকে ৭০ জন যাত্রী নিয়ে এমএল ঐশি-২ নামের একতলা লঞ্চটি উজিরপুরের হাবিবপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হয়।

পথে দুপুর ১২টার দিকে সন্ধ্যা নদীর সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের মজিদবাড়ি এলাকার দাসের হাট উত্তর পাড়ে যাত্রী ওঠানোর সময় নদীর পাড়ের বিশাল অংশ ভেঙে লঞ্চের ওপর পরে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়। এসময় যাত্রীরা তাড়াহুড়ো করে এক পাশে এলে লঞ্চটি কাঁত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে ডুবে যায়। পরে প্রায় ১৫ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। 

বরিশাল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন সিকদার জানান, নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় উদ্ধার কাজে বিলম্ব হচ্ছে। বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছে। ফায়ার ব্রিগেড, জেলা পুলিশ, নৌ পুলিশ ও স্থানীয় জনসাধারণ উদ্ধার কাজে নিয়োজিত আছে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক ড. গাজী সাইফুজ্জামান জানান, ‘দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জাকির হোসেনকে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সরকারিভাবে নিহতদের পরিবার প্রতি ১০ হাজার করে টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। ব্যাপকভাবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে।’

আজ (বুধবার) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার দাসের হাট এলাকার মসজিদ পয়েন্টে সন্ধ্যা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনাস্থলের ২০০ গজ দূরে ওই লঞ্চটিকে শনাক্ত করা হয়েছে। ডুবে যাওয়া ওই লঞ্চের মধ্যে আরো মরদেহ আটকে আছে কিনা তা দেখতে তল্লাশি চালাচ্ছেন ডুবুরিরা।

এমবি/কেবি