আমরা ৬ দফা দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণভাবে আমরণ অনশন কর্মসূচী পালন শুরু করেছি। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে, বিহারী মুসলমানরা কি মানবেতর জীবনই না যাপন করছে।
স্ট্যানডেড পাকিস্তানীজ জেনারেল রিপেট্রিয়েশন কমিটি'র (এসপিজেআরসি) মিরপুর শাখা বিহারী ক্যাম্পের সভাপতি হাজী মোহাম্মদ আলী এসব কথা বলেন।
দাবি মানা না হলে নাগরিক হিসেবে অধিকার আদায়ে রাজপথে আন্দোলনে নামার হুমকি দেন এ নেতা।

বুধবার টাইমনিউজের কাছে এক সাক্ষাৎকারে মিরপুর পল্লবীতে অবস্থিত বিহারী ক্যাম্পের বাসিন্দাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন তিনি। সমস্যা উত্তোরণে ৬ দফা দাবির কথা উল্লেখ করেন।
এসপিজেআরসি মিরপুর শাখা বিহারী ক্যাম্পের সভাপতি হাজী মোহাম্মদ আলী টাইমনিউজবিডি'কে বলেন, ''আমাদের উপর সব সময় একটা চাপ থাকে। ভূমিদস্যুদের চাপ। তারা বিভিন্নভাবে আমাদের বিহারী ক্যাম্পের জমি দখলের চেষ্টায় লিপ্ত।
বিভিন্ন ডিভলপার কোম্পানীকে ডেকে এনে মিরপুর পল্লবীতে অবস্থিত এই বিহারী ক্যাম্প এলাকার জমি দখলের চেষ্টা করছে সরকার সমর্থিত লোকজন। ফলে ডিভলপার কোম্পানীগুলোও প্রভাবিত হয়ে বিল্ডিং নির্মাণ করছে। এ নিয়েই মূলত: প্রভাবশালী মহলের সাথে প্রায়ই ঝামেলা হয় বিহারীদের।
তিনি বলেন, শবে-বরাতের রাতে কত স্থানই না পটকাবাজী হয়। আসলে পটকাবাজী কোনো ইস্যূ ছিল না ওই রাতে। ইস্যূ ছিল এমপি ইলিয়াস মোল্লা। মোল্লা সাহেব ঘটনার দুই দিন আগে চোরাই বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগ দেয়াকে কেন্দ্র করে নিজেই বিহারীদের সাথে বাকবিতাণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
সেই দিন এমপি বিহারীদের বলেছিলেন, দুই দিনের মধ্যে দেখিয়ে দেবেন যে তিনি ইলিয়াস মোল্লা। তিনি দেখিয়ে দিলেন। পুলিশ প্রশাসন, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে ১১ টি নিরাপরাধ মানুষকে পুড়িয়ে ও গুলি চালিয়ে হত্যা করে বুঝিয়ে দিলেন তিনি ইলিয়াস মোল্লা।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মিরপুর শাখা বিহারী ক্যাম্পের সভাপতি হাজী মোহাম্মদ আলী বলেন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এমন মানবতা বিরোধী অপরাধকে কিভাবে বলেন একটি দুর্ঘটনা। এতেই বোঝা যাচ্ছে ইলিয়াস মোল্লা আর হামলাকারীদের কোনো বিচার হবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরাও তো মানুষ। তবে কেন আমাদের উপর এমন জুলুম? আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা কি নিরাপত্তা দেবে বরং তাদের উপস্থিতিতে আমাদের উপর বর্বোচিত হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হামলার শিকার হলাম আমরা। ১১ টি প্রাণ নিষ্প্রাণ হলো। কিন্তু মামলাও হয়েছে আমাদের বিরুদ্ধে। ৮জনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। অজ্ঞাতনামে মামলা হওয়ায় কেউ থানায় গিয়ে খোঁজ নিতে পারছে না। এমন অবস্থায় আমরা বসে থাকতে পারি না।
তিনি বলেন, বুধবার সকালে বেনারসি পল্লী থেকে মিরপুর-১০ এর ইনডোর স্টেডিয়াম পর্যন্ত হাজার মানুষের অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। আমরা শুরুতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করছি। এরপর সরকার আমাদের দাবি দাওয়া মেনে না নিলে রাজপথে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, ৬ দফা দাবিতে দেশের ১৬ জেলার ৭০টি ক্যাম্পে একযোগে আমরণ অনশন কর্মসূচী পালন শুরু হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া এ কর্মসূচি চলবে।
তাদের দাবিগুলো হচ্ছে- ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, আটকদের নি:শর্ত মুক্তি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ প্রদান।
ঢাকা, জেইউ, ১৮ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) //





