পরিবহনের শৃঙ্খলা পরিচ্ছন্নতার অংশ বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ও পরিচ্ছন্নতার জন্য যা যা পদক্ষেপ তা নিতে হবে। পরিবহনের শৃঙ্খলা পরিচ্ছন্নতার অংশ। নগরী পরিচ্ছন্ন থাকবে না যদি পরিবহন ব্যবস্থা পরিচ্ছন্ন না হয়। পরিবহন ব্যবস্থা পরিচ্ছন্ন করতে হবে।’

বুধবার দুপুরে নগরীর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে পরিবহন সমস্যা নিয়ে জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এই মায়াবী নগরীর আকাশ আমরা আর দেখি না। বৃষ্টি বর্ষণের যে আনন্দ সেটা আমরা পাই না। বিলবোর্ডের জন্য কর্ণফুলীর ঢেউ দেখি না। বিলবোর্ডের জন্য পাহাড়তলী এলাকার পুকুর, ফয়স লেক ও পতেঙ্গা সমুদ্র তটের শোভা হারিয়ে যাচ্ছে। এই বিলবোর্ড অপসারণের জন্য আমি মেয়রকে অনুরোধ করছি। নাছির বিলবোর্ড উচ্ছেদ করতে পারবেন। সে সৎ সাহস, নৈতিক বল নাছিরের আছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিলবোর্ডগুলো উচ্ছেদ করতে গেলে রাজনৈতিক বাধা আসে। যে কোন মূল্যে এই রাজনৈতিক বাধাকে অতিক্রম করতে হবে। বিলবোর্ড উচ্ছেদের ক্ষেত্রে আমি আপনাদের সাথে আছি। প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন আমাদের প্রতি আছে।’

সেতু মন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন ও পরিবহন শ্রমিকদের আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনারা কঠিন সময়ে আমাদের যেভাবে সহযোগিতা করেছেন তা আমরা ভুলবো না। দুঃসময়ে আপনারা যেভাবে সার্ভিস দিয়েছেন জাতি সেটা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। আমরাও কৃতজ্ঞ হয়ে সেটা স্মরণ করি। আমি আপনাদেরকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

পরিবহন নেতাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘পরিবহন সেক্টরে অনেক সমস্যা আছে। সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। যখনই সমস্যা হবে সমাধান আসবেই। পৃথিবীর অনেক সংকটের সমাধান হয়ে গেছে। এসব সংকটও সমাধান হয়ে যাবে। বাস ও ট্রাক স্টেশন নির্মাণের জন্য আমি মেয়রকে অনুরোধ করেছি। এ বিষয়ে প্রস্তাবনাসহ সার্বিক কাজে মন্ত্রী হিসেবে আমার যা সহযোগিতা দরকার আমি তা করবো।’

পরিবহন শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে প্রধান করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনারকে সদস্য করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে দেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘পরিবহন সেক্টরের সমস্যা সমাধানের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তারা এসব সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সাথে বসবে। আজকের মতবিনিময় সভায় অনেক সুপারিশ উঠে এসেছে। অনেকের বক্তব্য শুনলাম। পর্যায়ক্রমে সেসব বাস্তবায়ন করা হবে। ব্যাটারি রিকশা অবৈধ। কিন্তু ব্যাটারি রিকশা এখনই বন্ধ করলে গরীব মানুষগুলো পথে বসে যাবে। সামনে রমজান-ঈদ আসছে। তাদেরকে পুনঃর্বাসন করার বিষয়টি ভাবতে হবে।’

সিএনজি অটো রিকশার মিটার নষ্ট হয়ে গেলে মেরামত করা যায় না, পরিবহন নেতাদের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগামীতে মিটারের যে টেন্ডার হবে, সেখানে চট্টগ্রাম থেকে অংশগ্রহণের বিষয়টি আমি দেখব। এছাড়া কাজ যারাই পাক, মিটারের একটি সার্ভিসিং সেন্টার যাতে চট্টগ্রামে থাকে সেটা নিশ্চিত করা হবে।’

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, ‘পরিবহন সেক্টরের অনেক সমস্যা রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে অতি দ্রুত আমি বসবো। আমি বিশ্বাস করি সমস্যা থাকলে, সেটার সমাধানও আছে।’

মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, পুলিশ কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডল, ট্রাফিক পুলিশের উপ-কশিনার মাসুদ উল আলম, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মোস্তাফিজুর রহমান ও পরিবহনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

জেআই