ঈদের ছুটিতেও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গ্রেফতার অভিযান চলবে। দুদক আইন অনুযায়ী ধর্মীয় উৎসবসহ বিশেষ কোনো দিবসে আসামি গ্রেফতারে বাধা নেই।
তালিকাভুক্ত অনেক আসামি পলাতক রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে তারা নিজ এলাকায় বা বাড়িতে অবস্থান করতে পারে। এই সুযোগটি কাজে লাগাতে চান ঢাকাসহ সারাদেশের তদন্ত কর্মকর্তারা। দুদক সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছেন। কখন কোন আসামিকে গ্রেফতার করবেন, এটা তারাই ভালো বুঝবেন। এ ক্ষেত্রে কমিশনের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। এবারের ঈদে সোম থেকে বুধবার তিন দিন সরকারি ছুটি। এই মূল ছুটির একদিন আগে রোববার সরকার বিশেষভাবে ছুটি ঘোষণা করেছে। তাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি ছুটি ভোগ করবেন চারদিন। রোববারের আগে শুক্র ও শনিবার ছিল সাপ্তাহিক ছুটি।
জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে ঢাকা মহানগর আদালতসহ দেশের সব আদালতের কার্যক্রম চালু থাকবে। সরকারি ছুটির সময় আদালতের জরুরি কাজ সম্পন্ন করতে একজন বিচারক দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে ঈদের ছুটিতে আসামি গ্রেফতার করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করা যাবে।
সম্প্রতি ঢাকায় এক আলোচনা সভায় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছিলেন, 'দুর্নীতিবাজদের স্থান ঘর নয়; জেলখানা। পলাতক আসামিদের খুঁজে খুঁজে বের করে গ্রেফতার করা হবে।'
দুদক সূত্র জানায়, সাবেক সিনিয়র সচিব ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন গত ১৪ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসে ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, প্রকৌশলী, আমলা, চিকিৎসক, ইউপি চেয়ারম্যান, কানুনগোসহ নানা পেশার ৩৪০ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক আসামিদেরও খোঁজা হচ্ছে। গ্রেফতার এড়াতে এরই মধ্যে কিছু আসামি গোপনে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ১৪ মার্চ দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ যোগদানের ছয় মাসে যত আসামি গ্রেফতার হয়েছে ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর কমিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ১৩ মার্চ পর্যন্ত ১২ বছরেও তত আসামি গ্রেফতার হয়নি। এর আগে আসামিরা দুদক অফিসের সামনে দিয়ে চলাচল করলেও তাদের গ্রেফতার করা হয়নি। অনেকে মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এসে তদবির করেছেন। তখন অনেক আসামিকে দায়মুক্তিও দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দুই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে গ্রেফতার করায় মতিঝিলে প্রতিষ্ঠানটির সদরদপ্তরে দুদকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-মিছিল হয়েছে। রাজউকের এই বিক্ষোভের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), সুশাসনের জন্য নাগরিকসহ (সুজন) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন।
এসএ





