গাজীপুর জেলা শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আজ রোববার দুপুরে জেলা বিএনপির যৌথ কর্মিসভা শেষে বের হওয়ার সময় পুলিশ আকস্মিক লাঠিপেটা করেছে। এতে অন্তত ২০ আহত হয়েছেন।

তবে পুলিশ বলছে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সেখানে যায় এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনকে আটক করা হয়।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে জেলা বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. নাহিন আহমেদ মমতাজী (৪৫), শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম মোল্লাহ (২৮),গাজীপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, জেলা ছাত্রদল কর্মী ফারুক আহমদ (২৭), এরশাদ সরকার (২৫), মো. কবির (২৮) ও দীপুর (২৫) নাম জানা গেছে।

আটক নেতা–কর্মীদের মধ্যে গাজীপুর সদর থানা বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. সোলায়মান খান, ছাত্রদল কর্মী ফারুক (২৭), এরশাদ সরকার (২৫), কবির হোসেন (২৮) ও দীপুর (২৫) নাম জানা গেছে।

গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য মো. মাজহারুল আলম জানান, গাজীপুর জেলা শহরের মধ্যছায়াবিথী ট্রাস্ট কমিউনিটি সেন্টারে বেলা পৌনে ১১টার দিকে জেলা বিএনপির যৌথ কর্মিসভা শুরু হয়। এতে গাজীপুরের জেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ার পারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মো. জয়নুল আবেদীন ফারুক।

অনুষ্ঠান চলাকালেই পুলিশ পুরো কমিউনিটি সেন্টারটি ঘিরে ফেলে। পরে অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করা হয়। বেলা একটার দিকে প্রধান ফটক দিয়ে নেতা-কর্মীরা সেন্টার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ আচমকা তাঁদের ওপর লাঠিপেটা শুরু করে। এ সময় প্রায় ২০ জন নেতা-কর্মী আহত হলে অন্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অবস্থা বেগতিক দেখে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পেছনের সীমানাপ্রাচীরে থাকা ছোট গেট খুলে পালিয়ে গেছেন। এ সময়ও তাঁদের বেশ কিছু নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

মাজহারুল আলম বলেন, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে আদালতে সম্ভাব্য রায় নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা যখন সংগঠিত হচ্ছিলেন, তখন দলীয় নেতা-কর্মীদের একতা ও চাঙা হওয়াকে দমিয়ে দিতে পুলিশ এ হামলা চালিয়েছে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল শেখ বলেন, বিএনপি কোনো অনুমোদন ছাড়াই ওই কর্মিসভা আয়োজন করে। পরে সেখানে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ সেখানে যায় এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনকে আটক করেছে।

গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক পুলিশের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে কোনো কোন্দল সৃষ্টি হয়নি এবং নিজেদের মধ্যে কোনো সংঘর্ষ হয়নি। এ ধরনের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পুলিশ তাদের ন্যক্কারজনক ঘটনা আড়াল করতেই এমন বক্তব্য দিচ্ছে।

এবিসি