সংঘাত নয়, শান্তি চাই। আমরা চাই দেশের মানুষ সব ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষ ভালো থাকুক। দেশ সুন্দরভাবে গড়ে উঠুক এটাই আমাদের লক্ষ্য বলে মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকালে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণার আগে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি সংস্কৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্য অসাম্প্রদায়িকতা। ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে মানুষে মানুষে মিলন হবে- এটাই বাঙালি সংস্কৃতির মূল কথা। আজ মাঝে মধ্যে নিজের মনেই প্রশ্ন জাগে, বাঙালি জাতি কি তার সংস্কৃতির মূলধারা থেকে বিচ্যুত হচ্ছে?
তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ, ধর্মান্ধতা, অসহিষ্ণুতা, সহিংসতা এসব বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই নয়। মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য, অতিথিপরায়ণতা হচ্ছে বাঙালির আদর্শ। বাঙালিরতো কখনই সম্পদের প্রাচুর্য ছিল না। কিন্তু অল্পতে তুষ্ট বাঙালি জীবনকে উপভোগ করার কৌশল জানত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। ধর্মের লেবাসধারীরা ধর্মীয় উপসনালয়ে হামলা করছে।
আমরা গত বছর দেখেছি, কীভাবে বায়তুল মোকারম জাতীয় মসজিদের চত্বরে পবিত্র কোরান শরীফে আগুন দেওয়া হয়। জাতীয় মসজিদ তছনছ করা হয়।
একমাত্র আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের ঐতিহ্যই পারে মানুষের এসব আমানবিক আচরণের পরিবর্তন আনতে।
আমাদের শিল্পী-সাহিত্যিক, সংস্কৃতিসেবীদের এ ব্যাপারে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এই গুণী মহান শিল্পীর বছরব্যাপী জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাচ্ছি।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস শিল্পাচার্যের শিল্পকর্ম দেখার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি দর্শক আমাদের বিশ্বমানের শিল্পকলা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাবেন।
নবীন শিল্পীরা উৎসাহিত হবেন। এ আয়োজন পরবর্তী প্রজন্মকেও আরও উজ্জীবিত করবে। আমাদের শিল্পাঙ্গন সমৃদ্ধ হবে।
পরে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে শিল্পার্চায জয়নুল আবেদিনের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন শেখ হাসিনা।
এসএইচ





