ভোলা জেলায় গ্যাস ভিত্তিক দুটি প্লান্ট থেকে উৎপাদিত ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়ে বৃহত্তর বরিশাল ও খুলনাসহ দক্ষিনাঞ্চলের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হয়েছে এ বিদ্যুৎ। অথচ ভোলা জেলার শতাধিক গ্রামে এখনও পৌঁছায়নি বিদ্যুৎ।
৩ হাজার কিলোমিটার লাইন টানার চাহিদা পত্র ফাইল বন্দী রয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৫ শ কিলোমিটার লাইন টানার চাহিদা রয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের। ওয়েস্টান জোন পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানী(ওজোপাডিকো)'র অধীন চাহিদা রয়েছে আরো ৫শ কিলোমিটারের।
জেলা সদরের ইলিশা ইউনিয়নের এমন একটি গ্রামের নাম চরআনন্দ পাট-৩। নানা কারণে গ্রামটি আলোচিত। বিদ্যুৎ না থাকায় এদের রাতকাটে নিরানন্দে। এমন কথা শত গ্রাম বাসীর।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত মোঃ বজলু রহমান ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, তার দল এখন ক্ষমতায়। আবার ভোলাসহ দেশে বিদ্যুৎ ঘাততি নেই। অথচ তাদের ৬নং ওয়ার্ডের ৮ হাজার পরিবারের জন্য টানা হচ্ছে না বিদ্যুৎ লাইন।
এলাকার শত শত মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সুপারিশসহ পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। ওই আবেদনও ফাইল বন্দী।
একই কথা জানান- ইউপি সদস্য মোঃ সামসুদ্দিন, মহিলা ইউপি সদস্য হাসিনা বেগম, মসজিদের ঈমাম আয়ুব আলী মুন্সি, এলাকার আব্দুর রব, মোঃ বশির, ডেইরী ফার্মের এমডি আক্তার হোসেন।
এরা জানান, গ্রামের নাম চর আনন্দ। অথচ তাদের মনে নেই কোন আনন্দ। এমন দৃশ্য জেলার ৭ উপজেলার শত গ্রামে। তরুন ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন জানান তিনি কোটি টাকা পুজি বিনিয়োগ করে ডেইরী ফার্ম দিয়েছেন জেনারেটর চালিয়ে কতদিন ব্যবসা করা যায়। একই কথা জানান কৃষি সেচ পাম্প ও খামার মালিকরা।
পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার মোঃ কেফায়েত উল্লাহ জানান, তাদের নতুন সংযোগ লাইন টানার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চর-আনন্দসহ যে সব গ্রামে এখন বিদ্যুৎ যায় নি, সে সব গ্রামে যত তারাতারি সম্ভব বিদ্যুৎ যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো জানান, এ বছর ৭৫০ কিলোমিটার লাইন টানা হবে। তার দফতরে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ২০ মেগাওয়াট ও ওজোপাডিকো’র চাহিদারয়েছে ১৫ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে জেলার চাহিদা ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। শত গ্রামে বিদ্যুৎ গেলে চাহিদা দাড়াবে ৪০ মেগাওয়াট।
বর্তমানে ভোলার দুটি প্লান্ট থেকে উৎপাদিত হচ্ছে ২শ মেগাওয়াট। আগামী ৩ মাস পর এর পরিমান গিয়ে দাড়াবে ২৫৫ মেগাওয়াটে।
এমকে





