ঢাকার বিশেষ দায়রা জজ ও জননিরাপত্তা ট্রাইব্যুনালের সাবেক বিচারক ফারুক আহম্মেদের দেশত্যাগের উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে প্রশাসনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থায় চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার বিকেলে দুদকের পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দপ্তর, পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থায় দুদকের পক্ষ থেকে সাবেক ওই বিচারকের উপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞায় চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে দুদকের জনৈক কর্মকর্তা জানান, বিচারক ফারুক আহম্মেদের বিরুদ্ধে মাদক ও চোরাচালানী মামলার আসামিদের খালাস দিয়ে বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। আর এ অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থেই দুদক এবার দুর্নীতি পরায়ণ সাবেক এ বিচারকের উপর দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে। কারণ শিগগিরই সাবেক এ বিচারক ফারুক আহম্মেদকে তলব করা হচ্ছে দুদকে।
দুদকের উপপরিচালক যতন কুমার রায় ইতোমধ্যে সাবেক বিচারক ফারুক আহম্মেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন।
সাবেক এ বিচারকের বিরুদ্ধে মাত্র ১৮ কার্যদিবসে ঢাকার জননিরাপত্তা আদালতের বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে তড়িঘড়ি করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ২৪ মামলার রায় প্রদানের অভিযোগ রয়েছে। আর এসব মামলার আসামিদের তিনি বেকসুর খালাস দেন।
অভিযোগ রয়েছে,এ বিচারক এক দিনে ১০ মামলার সব সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ ও আসামি পরীক্ষা এবং যুক্তিতর্ক শেষ করেন। শুনানি শেষে ১০ দিনের ব্যবধানে ২০টি মামলা নিষ্পত্তি করেন। প্রায় ৯ কোটি টাকা মূল্যের হেরোইন পাচারের ২ মামলায় এবং ইয়াবা পাচারের এক মামলায় সাত বিদেশিসহ ১১ আসামির খালাস।
এ ছাড়া গত ৬ মাসে খালাস দিয়েছেন ৭৭ মামলার আসামিদের। গত ২৬ জুন অবসরে যান বিচারক ।
বিচারক ফারুক আহম্মেদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। তার প্রতিবেদনে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ রয়েছে। এ বিচারককে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেয়া হলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব দেশের বিচার বিভাগে একটি নেতিবাচক দিক হিসেবে কাজ করবে।
বিচারপতি এসকে সিনহার প্রতিবেদনে ওই বিচারক ফারুক আহম্মেদের নিষ্পত্তি করা ২৮ মামলার রেকর্ডপত্র পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। ঢাকার জননিরাপত্তা আদালতের বিচারক (দায়রা জজ) ফারুক আহম্মেদ অবসর গ্রহণের আগের মাসে ১ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত ২৪ মামলা তড়িঘড়ি করে সাক্ষীদের বক্তব্য পর রায় প্রদান করেন। ৩৪২ ধারার পরীক্ষা ও যুক্তিতর্ক গ্রহণ করেছেন এবং প্রতিদিনই কোনো না কোনো মামলার রায় প্রদান করেছেন।
তার রায়ের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১ জুন একটি, ২ জুন একটি, ৪ জুন একটি, ৫ জুন ১টি , ৮ ও ৯ জুন ২টি, ১০ জুন ২টি, ২৫ জুন ৩টি এবং ২৬ জুন ২টি মামলার রায় প্রদান করেছেন। একজন বিচারকের পক্ষে এধরনের রায় প্রদানের পেছনে আর্থিক লেনদেন ও দুর্নীতির বিষয় নিয়ে রীতিমতো প্রশ্ন উঠেছে।
একটি মামলা ৫ কেজি ৮০০ গ্রাম হেরোইন হাতেনাতে ধরা হয়। আরেকটি মামলায় ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ করা হয়। এসব মামলায় কিভাবে বিচারক ফারুক আহম্মেদ আসামিদের খালাস দিয়েছেন। অধিকন্তু প্রায় সব মামলায় আসামিরা পলাতক ছিল, যারা বাদী পক্ষের সাক্ষ্যকে চ্যালেঞ্জ করেনি।
ঢাকা, একে, ১২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম,এসএইচ





