টানা বর্ষণ আর পাহাড়ী ঢলে সিলেটের কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের সুরমা নদী, কুশিয়ারা নদীর শেওলা, আমলসীদ পয়েন্টে ১ মিটারেরও বেশি পানি বেড়েছে। সিলেট নগরীসহ জেলার জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ অবস্থায় হুমকির মুখে পড়েছে কয়েক হাজার হেক্টর আউশ, ইরি ও সবজির মাঠ।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, প্রাক-বর্ষা মৌসুমে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে বাতাস বয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন হালকা বৃষ্টিপাত বয়ে যাবে।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খালেদুর রহমান জানান, পাহাড়ী ঢলে জেলার জৈন্তাপুর উপজেলা প্লাবিত হলেও ৩-৪ ঘণ্টা পর পানি নিচে নেমে গেছে। আমাদের বন্যা মোকাবেলার প্রস্তুতিও রয়েছে।
জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। অধিকাংশ এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পাহাড়ী ঢলের কারণে দেশের বৃহত্তম পাথর কোয়ারি কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ, গোয়াইনঘাটের জাফলং, বিছনাকান্দি, জৈন্তাপুরের রাংপানি, কানাইঘাটের লোভাপাথরের সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
অতিবৃষ্টির কারণে কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। সোমবার সন্ধ্যায় সুরমার পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুল মতিন জানান, সোমবার সকাল ৯টায় কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। এ ছাড়া সিলেটে সুরমা, শেওলা ও আমলসীদে কুশিয়ারা নদীর পানি ২৪ ঘণ্টায় ১ মিটারের বেশি বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
গতদিনের অবিরাম বৃষ্টি আর ভারত থেকে নেমে আসা সীমান্তবর্তী পিয়াইন ও সারী নদীর ঢলে গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরের সর্বত্র প্লাবিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রোপা আউশ ও আউশের বীজতলা এবং রোপা আউশ ও ইরিক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, পানি বৃদ্ধির খবরে পানিবন্দী ৩০০ পরিবারেরর মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার প্রত্যেক ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। জরুরী ত্রাণের জন্য সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বন্যা মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে। পানিবন্দীদের মধ্যে শুকনা খাবার ও নগদ টাকা বিতরণের প্রস্তুতি রয়েছে।
এদিকে অতিবৃষ্টির কারণে সিলেট নগরীর কুয়ারপার, শেখঘাট, লালদীঘিরপার, বিলপার, ভাতালিয়া, লামাবাজার, খুলিয়াপাড়া, কলাপাড়া মজুমদারপাড়া, ঘাসিটুলা, মুন্সীপাড়া, মিরাবাজার, চালিবন্দর, উপশহর, শিবগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমার খোজারখলা, লাউয়াই, ভার্থখলা, ঝালোপাড়া, টেকনিক্যাল রোড, মোমিনখলা, কায়স্থরাইলসহ অধিকাংশ এলাকায় হাঁটুপানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
এএইচ





