ষাটোর্ধ্ব বয়সের নাগরিকরা বিশেষ (সিনিয়র সিটিজেন) মর্যাদা পাচ্ছেন। দেশের এক কোটি ৩০ লাখ প্রবীণকে ‘সিনিয়র সিটিজেন’ হিসেবে ঘোষণা দেয়া হবে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বৃহস্পতিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিকেল ৩টায় এক অনুষ্ঠানে প্রবীণদের ‘জ্যেষ্ঠ নাগরিক’ হিসেবে ঘোষণা দেবেন। সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিনও এতে উপস্থিত থাকবেন।

জানা গেছে, বিশেষ মর্যাদা পাওয়া নাগরিকরা সব ধরনের পরিবহনে কম ভাড়ায় যাতায়াত, হাসপাতালে সাশ্রয়ী মূল্যে আলাদা চিকিৎসাসেবা, আলাদা বাসস্থান সুবিধা পাবেন। নির্বাচন কমিশন থেকে শিগগিরই বয়স্ক নাগরিকদের আলাদা পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. হোসেন মোল্লা বলেন, গত বছরের ১৭ নভেম্বর ‘জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা, ২০১৩’ অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। নীতিমালায় প্রবীণ ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জ্যেষ্ঠ নাগরিক’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে ২৭ লাখ ২৩ হাজার প্রবীণকে মাসে ৪০০ টাকা করে বছরে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা দিয়ে থাকি। ১৯৯৬ সালে ১২ কোটি ৫০ লাখ প্রবীণকে দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল।

তিনি জানান, জ্যেষ্ঠ নাগরিক ঘোষণার জন্য প্রবীণ বিষয়ক জাতীয় কমিটি জাতীয় অধ্যাপক এম আর খানকে প্রধান করে একটি কোর কমিটি গঠন করে। কোর কমিটি জাতীয় কমিটির কাছে প্রতিবেদন দেয়। সেই প্রতিবেদনের আলোকে একটি এ্যাকশন প্ল্যান (কর্মপরিকল্পনা) করা হয়েছে।

বয়স্ক নাগরিকদের নিয়ে কর্মপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে হোসেন মোল্লা বলেন, প্রবীণরা সাধারণত হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থাইটিসে ভুগে থাকে। এ সব রোগের চিকিৎসা দিতে হাসপাতালগুলোতে ‘জেরিয়েটিক মেডিসিন’ বিভাগ চালু করা হবে। এ জন্য আমরা ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। প্রবীণদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে ৯০টি বড় হাসপাতালকে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। বয়স্ক নাগরিকরা সেখানে সাশ্রয়ী মূল্যে সব ধরনের সেবা পাবেন।

বয়স্ক নাগরিকদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে জানিয়ে হোসেন মোল্লা বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এ বিষয়ে কয়েক দফা মিটিং করেছি। তারা গোলাপী রঙের কার্ডে বিশেষ লোগো ব্যবহার করে সিনিয়র সিটিজেনদের পরিচয়পত্র দেবেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখার যুগ্ম-সচিব গণমাধ্যমকে জানান, একটি নতুন আইনের আওতায় প্রবীণ উন্নয়ন ফাউন্ডেশন গঠন করে জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। ইতোমধ্যে আইনের খসড়া করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোতে ৬৫ বছর বয়সী ব্যক্তিদের প্রবীণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং জাতিসংঘ বিবেচনায় ৬০ বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের প্রবীণ বলা হয়। জাতিসংঘের স্বীকৃতি বিবেচনায় বাংলাদেশে ৬০ বছর এবং তার বেশি বয়সী ব্যক্তিরা প্রবীণ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

মৃত্যুহার কমে গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ায় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার চার দশমিক ৯৮ শতাংশ ছিল প্রবীণ জনগোষ্ঠী এবং জনসংখ্যা প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৫০ সালে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর এই হার হবে ২০ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজন মানুষের মধ্যে একজন হবেন প্রবীণ।

জেএ