গাইবান্ধায় ফুলছড়ি উপজেলার নদী পাড়ের মানুষ গুলো দিন-রাত কাটছে আতংকে।কখন আবার নদী ভাঙনে নিজেকে বিলিয়ে দিতে নদীর মাঝে। তিস্তা ,যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর প্রায় ২০টি পয়েন্ট এই শুকনো মৌসুমে ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ইতোমধ্যে ফুলছড়ি উপজেলায় ৪ শতাধিক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন আতঙ্কে কয়েক হাজার পরিবার হতাসায় জীবন যাপন করছেন।
মাত্র ৪০/৫০ ফুট দূরে ফজলুপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র । কখন যে ভেঙ্গে যাবে সেই আতঙ্খে দু'তলা এই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র কার্যক্রম স্থগিত করে নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে। ভাংগনের শিকার ফুলছড়ি উপজেলার ভুক্তভুগিরা জানান, যেভাবে নদীর ভাংগছে তাতে আর এখানে মোটেও থাকা যায় না । শুকনো মৌসুমে এমন ভাংগন আমরা আগে কোন দিন দেখিনি ।
ভাংগনের কারনে এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছি। সারা রাত জেগে পাহারা দেই । কখন নদী ভেঙ্গে যায়। পানি বাড়তে আছে আমারা ঘর-বাড়ী সরাচ্ছি ।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,নদীর পানি বাড়তে থাকায় ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের সিংড়িয়া, উড়িয়ার রতনপুর, কালাসোনা, গজারিয়ার কামারপাড়া, জিয়াডাঙ্গা, কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের রসুলপুর, পূর্ব কঞ্চিপাড়া, জোড়াবাড়ি, সাতারকান্দি, ফজলুপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর ও খাটিয়ামারী গ্রাম এবং সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দী ও গজারিয়া ইউনিয়নের জিয়াডাঙ্গা গ্রাম ও ঘুরিদহ ইউনিয়নের চিনিরপটল হলয়িা ইউনিয়নের গোবিন্দ পুর গ্রামে নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দেয় ।
ফজলুপুর ইউনিয়নের উত্তরখাটিয়ামারী ,চন্দনস্বর, উত্তর খাটিয়ামারী, পূর্ব খাটিয়ামারী, পশ্চিম খাটিয়ামারী, কুচখালী, কাউয়াবাঁধা সহ আশে পাশের প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকার লোকজন ভাংগন আতংকে সরে যেতে শুরু করেছে। অনেকেই অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ বাড়ী-ঘর সড়াচ্ছে এবং ভাঙ্গন কবলিত এলাকার গাছ পালা কেটে নিচ্ছে। এছাড়াও সাঘাটা – ফুলছড়ি উপজেলার প্রায় ২০ টি পয়েন্টে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে ।খুব শীঘ্রই ভাংগন রোধে ব্যবস্থা না নিলে হাজার হাজার পরিবার গৃহহাড়া হবে ।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লাহ বলেন, ফুলছড়ি উপজেলটি একটি নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা । এই উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়ন নদী গর্ভে আবস্থিত । ইতিমধ্যে কয়েকটি স্থাপনা সহ গ্রাম নদীগর্ভে চলে গেছে। আমরা প্রশাসনিক ভাবে চেষ্টা করছি কিভাবে নদী ভাঙ্গন রোধ করা যায় ।
এইচ ই





