ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের হাতে থাকা হ্যান্ডকাফের চেইনে ফাঁস লেগে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করছে, পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে চেইনে ফাঁস দিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনার পর শত শত গ্রামবাসী জড়ো হয়ে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেছে। তারা দায়ী পুলিশদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। আজ শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন।

নিহতের নাম আসাদুল হাওলাদার (৩০। পিতার নাম ইসহাক হাওলাদার। বাড়ি কালামৃধা ইউনিয়নের মিয়াপাড়া গ্রামে।

জানা গেছে, ভাঙ্গা থানার এসআই মুকুল ও এসআই বাদলের নেতৃত্বে ৪/৫ জন পুলিশ সাদা পোশাকে কালামৃধা ইউনিয়নের মিয়াপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। এসময় আসাদুল ও তার সহযোগী জহুরুল একটি গম খেতে বসে ছিলেন। পুলিশ দেখে আসাদুল ও জহুরুল দু’জনই দৌড়ে পালাতে উদ্যত হন। জহুরুল একটি পুকুরে ঝাপ দিয়ে সাঁতরে পালিয়ে যান। অপরদিকে দৌড়রত আসাদুলের গলায় চেইন দিয়ে তার গতিরোধ করার চেষ্টা চালানো হয়। এতে গলায় ফাঁস লেগে ঘটনাস্থলেই আসাদুলের মৃত্যু হয়।

আসাদুলের মৃত্যুর পর বিভিন্ন দিক হতে গ্রামবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে এগিয়ে এসে পুলিশকে ধাওয়া করতে তাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ দ্রুত সেখান হতে স্থান ত্যাগ করে।

এরপর গ্রামবাসী আসাদুলের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করতে করতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পুলিয়ায় এসে বেলা সাড়ে ৩টা থেকে মহাসড়ক অবরোধ শুরু করে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকেল ৫টা) অবরোধ চলছিল।

এদিকে, ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ও ভাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন গ্রামবাসীর নিকট হতে আসাদুলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশের মাধ্যমে মর্গে পাঠায়।

নিহত আসাদুলের বোন স্বপ্না বেগম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, তার ভাই ও এক বন্ধু বাড়ির পাশে গম খেতে বসেছিল। পুলিশ বিনা কারণে তাদের ধাওয়া করে। গ্রেফতার করে টাকা আদায়ের ভয়ে তারা দৌড় দেয়। কিন্তু পালানের সময় তার ভাই আসাদুলের গলায় চেইন ছুড়ে মেরে গলায় ফাঁস দেয় এক পুলিশ। এতে তার ভাই মারা যায়। তার ভাইকে টাকার জন্য হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

কালামৃধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস্কেন্দার খলিফা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পুলিশের চেইনেই গলায় ফাঁস লেগে আসাদুলের মৃত্যু হয়েছে। আমরা এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

ভাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ঘটনাটি জানার পর আমরা বিুব্ধ গ্রামবাসীকে শান্ত করার চেষ্টা চালাই। এব্যাপারে দোষিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ভাঙ্গা থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) সামসুদ্দোহার সাথে এব্যাপারে যোগাযোগ করলে তিনি অন্যত্র রয়েছেন উল্লেখ করে এ বিষয়ে ওসির সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান।

ভাঙ্গা থানার ওসি নাজমুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার পর তিনি অবিযোগ জানতে পেরেছেন মন্তব্য করে বলেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত না করে কিছু বলতে পারছি না।

জেডআই