নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃদ্ধি পেয়েছে ধরলা ও তিস্তার পানি।
পানি আবারো বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে প্লাবিত হয়েছে চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর, উলিপুর ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার আরো ৫টি ইউনিয়নের ৩৮টি গ্রাম। এ নিয়ে জেলায় বন্যাকবলিত ইউনিয়নের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৫টি। নতুন করে আরো ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ায় জেলায় পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ। বন্যার্তদের জন্য সরকারিভাবে সামান্য ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও বেসরকারি পর্যায়ে এখন পর্যন্ত কোনো ত্রান তৎপরতা শুরু হয়নি। এ অবস্থায় দুই সপ্তাহ ধরে চরম খাদ্য সংকটের পাশাপাশি বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে পড়েছে পানিবন্দিরা।
বন্যা দুর্গত এলাকায় নৌকার শব্দ শুনলেই ত্রাণের জন্য ছুটে আসছে বানভাসি মানুষজন। চারণভূমি তলিয়ে থাকায় দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট।
দীর্ঘ সময় বাড়িঘর থেকে পানি নেমে না যাওয়ায় দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ।
জেলা প্রশাসক এবিএম আজাদ জানান, দুর্গম চর এলাকায় পানিবন্দি মানুষজনের কাছে শুকনো খাবার পৌঁছানোর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বানভাসিদের জন্য এ পর্যন্ত ১১ লাখ টাকা ও ৫শ’ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রকৌশলী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২৬ সেন্টিমিটার, কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ১১ সেন্টিমিটার এবং সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ





