যশোরে বাপ্পা (২০) নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে একটি পোশাকের দোকানের বহু লোকের সামনে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ভয়ে কেউ যুবকের সাহায্যে এগিয়ে আসেননি। রোববার রাত ০৭টার দিকেএই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাপ্পু টাউন হল ময়দান থেকে চার যুবক ছুরি উঁচিয়ে বাপ্পাকে ধাওয়া করতে থাকে। এ সময় সে প্রাণ বাঁচাতে দৌঁড়ে পাশের জেলা পরিষদ মার্কেটে ‘জিন্স ফ্যাশান’ নামে একটি দোকানের মধ্যে ঢুকে পড়েন। দুর্বৃত্তরাও পেছন পেছন দৌঁড়ে এসে ওই দোকানে ঢুকে বাপ্পার বুকে উপর্যুপরি ছুরি মেরে পালিয়ে যায়।
জমজমাট মার্কেটের মধ্যে প্রকাশ্যে এভাবে ধাওয়া করে যুবককে ছুরি মেরে রক্তাক্ত করার ঘটনায় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তারা ভয়ে কেউ বাপ্পাকে বাঁচাতে এগিয়ে যাননি। দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেলে উপস্থিত লোকজন তাকে জেনারেল হাসপাতালে নেন।
নিহত বাপ্পা শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোড এলাকার মোতালেব হোসেনের ছেলে। তবে তিনি তার মায়ের দ্বিতীয় স্বামী একই এলাকার রফিকুল ইসলামের সঙ্গে থাকতেন। রফিকুলের চায়ের দোকান আছে। বাপ্পা তাকে সহযোগিতা করতেন।
নিহতের মামা মনির হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, 'দিকে ৩-৪ জন যুবক টাউন হল মাঠ থেকে বাপ্পাকে ধাওয়া দেয়। এসময় বাপ্পা দৌড়ে পাশের একটি পোশাকের দোকানের মধ্যে ঢুকে পড়ে। এসময় দুর্বৃত্তরা দোকানের মধ্যে ঢুকে বাপ্পার বুকে পরপর তিন বার ছুরি মারে। দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেলে আমিসহ স্থানীয় লোকজন বাপ্পাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।’
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার মো. ইউসুফ আলী জানিয়েছেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই বাপ্পার মৃত্যু হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ তার মৃত্যুর কারণ।’
এব্যাপারে যশোর কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মো. ইলিয়াস হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন,‘ঘটনাস্থলে এসআই জীবনকুমারকে পাঠানো হয়েছে।’
এসআই জীবনকুমার জানান, তিনি ঘটনাস্থলে আছেন। কারা কী কারণে বাপ্পাকে ছুরি মেরে খুন করেছে তা এখনো উদ্ঘাটন করা যায়নি। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
তারেক/জারিফ





