বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যমতে দেশে মোট নিবন্ধিত হালকা ও ভারী গাড়ির সংখ্যা ২৯ লাখ ২০ হাজার ৮৩৬টি। এই সব গাড়ি চালক বা নিবন্ধিত ড্রাইভারের সংখ্যা ১৭ লাখ।
হিসাব করলে দেখা যাচ্ছে ১২ লাখ গাড়ি রাস্তায় চলাচল করছে নিবন্ধনহীন বা অপেশাদার চালকের হাতে। যাদের নেই কোনো গাড়ি চালানোর অনুমতি। সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার ফলে অকালে ঝরে যাচ্ছে মূল্যবান প্রাণ।
অপেশাদার চালক, যাদের নেই কোন বৈধতা, তাদের হাত ধরেই যানবাহনের বেপরোয়া গতি আর আইন না মানায় পরিণত হয়েছে এ মৃত্যুর মহামারী।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীর দেওয়া তথ্য মতে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনার নিহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৬৯৭ জন। যার ৪৮ শতাংশ দায়ী যাত্রীবাহী বাস আর ৩৭ শতাংশ ট্রাক।
তিনি জানান, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আমরা দেখেছি ২০১৫ সালে ছয় হাজার ৫৮১টি সড়ক দুর্ঘটনায় আট হাজার ৬৪২ জন নিহত ও ২১ হাজার ৮৫৫ জন আহত হন। এবং ২০১৬ সালে চার হাজার ৩১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ছয় হাজার ৫৫ জন নিহত এবং ১৫ হাজার ৯১৪ জন আহত হন।
এ বিষয়ে দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বুয়েট এর পরিচালক অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় নিহতদের এটা একটা বড় পরিসংখ্যান, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া অধিকাংশ সময় চালকদের দোষেই এ সব দুর্ঘটনা হয়ে থাকে। চালকদের পরীক্ষার মাধ্যমে নিবন্ধন নিশ্চিত করা গেলেই এ দুর্ঘটনা অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব।
সাম্প্রতিক সময়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান বলছে চলতি ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন নিহত হয়েছেন আহত হয়েছেন ১০১২ জন। নিহতদের মধ্যে ৫৪ জন নারী ও ৫৫ জন শিশু ও রয়েছেন।
এ বিষয়ে সাবেক শ্রমিক নেতা ও বাংলাদেশ শ্রমিক সড়ক পরিবহণ ইউনিয়নের সভাপতি মুঞ্জুরুল আহসান খান বলেন, এত সব দুর্ঘটনার কারণ একটাই, এই যে ১২ লাখ গাড়ি যারা চালাচ্ছেন তারা অপেশাদার চালক। নেই কোন জবাবদিহিতা, মানছে না কোন আইন। এগুলো রোধ না করা গেলে, মৃত্যর মিছিল কখনই কমানো সম্ভব না।
বিআরটিএ সচিব শওকত আলী জানান, ১২ লাখ গাড়ির কোন নিবন্ধিত চালক নেই এটা সত্য। তবে মোট নিবন্ধিত গাড়ির ১৭ লাখ ৪৫ হাজার ২৯০টি হল মোটরবাইক, এই মোটরবাইকের চালকেরা কিন্তু নিয়মিত গাড়ি চালায় না, তাই বলা যায় মহাসড়কে যারা গাড়ি চালায়, তারা পেশাদার গাড়ি চালকই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এই সেক্টরে বেশ কিছু জনবল ঘাটতি আছে, ১৯৯০ সালে ২৯১ জন নিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে আছে ৮২৭ জন। প্রায় ২৪০টির মতো পদ এখন ও শূন্য আছে। এই সীমাবদ্ধতার মাঝেও আমরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছি, প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ গাড়ির লাইসেন্স দেই আমরা, প্রতিটি গাড়ির বছরে একবার ফিটনেস পরীক্ষা করি।
পরীক্ষা না নিয়ে লাইসেন্স দেবার বিষয়ে তিনি বলেন, লাইসেন্স দেবার ক্ষেত্রে যে অনিয়মের কথা আছে-পরীক্ষা না দিয়ে লাইসেন্স পাওয়া যায়। সুনিদিষ্ট প্রমাণ থাকলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করি।
এমএনজে





