রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের ধাপেরহাট থেকে চিকলি পর্যন্ত দুর্ঘটনা প্রবণ ১১টি স্থানে সড়ক সম্প্রসারণ কাজের ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়। এর মধ্যে পাঁচ কোটি টাকা কাজ না করেও ঠিকাদারকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে রংপুর সড়ক বিভাগের ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সড়ক বিভাগের একাধিক ঠিকাদার জানান, এ ঘটনার সঙ্গে সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী জড়িত রয়েছেন।

এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রংপুর সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুর রেজ্জাক জানান, এখন পর্যন্ত ৬০ ভাগ কাজ শেষ হওয়ায় বিল দেওয়া হয়েছে।

তবে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এখলাস হোসেন জানিয়েছেন, তারাগঞ্জের চিকলি ও তারাগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ১০ থেকে ১৫ ভাগ কাজ ছাড়া অন্য কোনো স্থানে এখন পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি।

অভিযোগ উঠেছে, এ কাজের ঠিকাদার বেলাল ও কিরনের সঙ্গে প্রকৌশলীদের বিশেষ সম্পর্ক থাকায় তারা কাজ না করে ঈদের আগে বিল নিয়েছেন।

রংপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের তারাগঞ্জ, রংপুর, মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ উপজেলার ১১টি স্থানকে ব্ল্যাক স্পট (ঝুঁকিপূর্ণ স্থান) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

ওই স্থানগুলোতে সরকারি-বেসরকারি অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেশি থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

স্থানগুলো হলো- রংপুর মেডিকেল মোড়, পীরগঞ্জ, বড়দরগা, লালদিঘী, মিঠাপুকুর ইন্টার সেন্টার, শঠিবাড়ি, দমদমা, ধর্মদাস বাসস্ট্যান্ড, তারাগঞ্জ, ইকরচালী ও চিকলী।

১১টি ব্ল্যাক স্পটের জন্য চলতি বছর সড়ক ও জনপথ বিভাগ দরপত্র আহ্বান করে। কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল।

কাজটি পাবনার র‌্যাব আরসি প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সে পান কুড়িগ্রামের ঠিকাদার বেলাল হোসেন ও রংপুরের ঠিকাদার কিরন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পীরগঞ্জের লালদিঘী, বড়দরগা, দমদা, মর্ডান এলাকায় এখনও কোনো কাজ শুরু হয়নি। তারাগঞ্জের চিকলী স্পটে ডিভাইডার ও রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ চলছে দায়সারা ভাবে।

এছাড়া তারাগঞ্জ সদরের বর্ধিত অংশে খোঁয়া বিছানো ও ডিভাইডারের কাজ চলছে। বাকি ৭টি স্পটে মাটি খোঁড়াখুড়ি ও খোঁয়া বিছানো হয়েছে।

ঠিকাদার বেলাল ও কিরন দাবি করেন, তারা ৬০ ভাগ কাজ শেষ করেছেন। কাজের বিল হিসেবে পাঁচ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, জুন ক্লোজিংয়ের কারণে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে পাঁচ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। অগ্রিম টাকা না দিলে সম্পূর্ণ টাকা ফেরৎ চলে যেত।

এমকে