বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম-কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান ও ডেপুটি কমিশনার নিতিশ বিশ্বাসের উপর বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬) হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার পর দুপুর ১২টার থেকে বেনাপোল স্থল বন্দরের সব কাজ বন্ধ করে দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
যুগ্ম-কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমানের অফিসের সামনে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার প্রতিবাদে কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টমস ও বন্দরের সব কাজ বন্ধ করে দিয়ে কালো ব্যাজ ধারণ, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন।
হামলার জন্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। তারা আজ (বুধবার) সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে আগামীকাল সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বেনাপোল কাস্টমস হাউজের রাজস্ব কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।
বেনাপোল কাস্টমসের পরিদর্শক রাকিবুল ইসলাম জানান, কাস্টমসে নিলাম আহবান করা হলেই স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রভাব খাটিয়ে তা হাতিয়ে নিতে চায়। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত ছিলেন ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এরই জের ধরে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ২৫-৩০ জনের একটি গ্রুপ যুগ্ম-কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে দেখা করতে গিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে।
এক পর্যায়ে যুগ্ম-কমিশনার তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার উপর হামলা করা হয়। ডেপুটি কমিশনার নিতীশ চন্দ্র তাদের বাধা দিতে গেলে তার ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার প্রতিবাদে কাস্টমস ও বন্দরের সব ধরনের কাজকর্ম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কাস্টমস হাউজে কোনো কাজ হয়নি। বন্দর থেকে সব ধরনের মালামাল খালাস বন্ধ রয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়শেনের সিনিয়র সহ সভাপতি নুরুজ্জামান জানান, নিলামের পণ্য কমমূল্যে ক্রয়ের জন্য ছাত্রলীগ নেতারা যুগ্ম-কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমানের উপর হামলা করেছে। সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার এএফএম আব্দুল্লাহ খান জানান, বহিরাগত একদল সন্ত্রাসী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। কিছু সময় কাজ বন্ধ ছিল। ভিডিও ফুটেজে হামলাকারীদের সনাক্ত করে থানায় মামলা করা হয়েছে। সরকারি রাজস্ব আহরণের ব্যাপারে সবাইকে নিয়ে জরুরি সভা করে কাজ করার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অপুর্ব হাসান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কাস্টমস হাউসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে বেনাপোল বন্দরে সব ধরনের আমদানি রফতানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। বন্দরের অভ্যন্তরে মালামাল বোঝাই ট্রাক আটকে আছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ থানায় মামলা করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
সবশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে ফিরিয়ে আনতে দফায় দফায় বৈঠক চলছিল। কাস্টমস হাউজে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এমই, কেবি





