গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২ ইভিএম কেন্দ্রে ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের নৌকা প্রতীক এগিয়ে রয়েছে। ২ কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৪০০৪ জন।
কেন্দ্র ২টি হলো- বিলাসমনি বালক উচ্চবিদ্যালয় উত্তর পাশের এক নম্বর ভবন, (১৯১ নম্বর, পুরষ কেন্দ্র) ও রানী বিলাসমনি বালক উচ্চবিদ্যালয় ২ নম্বর ভবন (১৯২ নম্বর মহিলা কেন্দ্র)।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের নৌকা প্রতীকে ভোট পান ১২৬৫ এবং বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের ধানের শীষে ভোট পান ৫০৮ ভোট।
আজ (মঙ্গলবার) প্রিজাইডিং অফিসার সেলিম উল্লাহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রিজাইডিং অফিসার জানান, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের রানী বিলাসমনি বালক উচ্চবিদ্যালয় উত্তর পাশের ১ নম্বর ভবন, (১৯১ নম্বর, পুরষ কেন্দ্র) ইভিএম কেন্দ্রের ভোট গণনার ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ১৯২৭।
সেলিম উল্লাহ জানান, এতে নৌকা প্রতীকে পড়েছে ৬৫৫, ধানের শীষে ২৯৬, কাচি ২৫, মিনার ৬, টেবিল গড়ি ৮, মোমবাতি ২০৭ ও হাতপাখা প্রতীকে ২৪ ভোট পড়েছে।
এছাড়া, রানী বিলাসমনি বালক উচ্চবিদ্যালয় ২ নম্বর ভবনে (১৯২ নম্বর মহিলা কেন্দ্র) মোট ভোটার ২০৭৭। এই কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে পড়েছে ৬১০, ধানের শীষে ২১২ ভোট পড়েছে।
এর আগে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
নির্বাচনে জালভোট ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে সাত কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। তবে দুপুরেই এক সংবাদ সম্মেলনে এসে অনিয়মের ভোটগ্রহণ বন্ধের দাবি জানান বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার।
ভোট গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের হাসান সরকার বলেছেন, ‘৮০ বছরের ইতিহাসে এমন ভোট ডাকাতি দেখেনি গাজীপুরবাসী’
গাজীপুরবাসী ৮০ বছরের ইতিহাসে এমন ভোট ডাকাতি দেখেনি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার।
আজ (মঙ্গলবার) নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের হাসান সরকার এ কথা বলেন।
বিএনপি মেয়র প্রার্থী বলেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ৪’শর অধিক কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি হয়েছে। আওয়ামী লীগের স্বরূপ উন্মোচন করার জন্যই বিএনপি নির্বাচন বয়কট করেনি বলে জানান হাসান সরকার।
হাসান সরকার অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্র দখল ও ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে একচেটিয়াভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে গাজীপুরে। বিএনপির এজেন্টদের জোরপূর্বক কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।
ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেনি। এমন ভোট ইতোপূর্বে গাজীপুরবাসী দেখেনি। এমন নির্বাচনের মাধ্যমে কমিশনকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।
জালভোট-ব্যালট পেপার ছিনতাই: ৭ কেন্দ্রে ভোট স্থগিত
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জালভোট ও ব্যালট পেপার ছিনতাই’সহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ৭ কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) দুপুর ২টার পর নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিবউদ্দীন মণ্ডল গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ভোটে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৭২ নম্বর কেন্দ্র টঙ্গীর খরতৈল মনসুর আলী আদর্শ বিদ্যালয়-১, ৩৭৩ নম্বর খরতৈল মনসুর আলী আদর্শ বিদ্যালয়-২, টঙ্গীর বড় দেওড়ার হাজী পিয়ার আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, ৯৮ নম্বর কেন্দ্র বাসন এলাকার ভোগড়া মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৭৪ বিন্দান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, ৩৪২ জাহান পাবলিক দত্তপাড়া ও ৬১ এমইএইচ আরিফ কলেজ কোনাবাড়ী কেন্দ্রের ভোট স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ সকাল ৮টা থেকে এ সিটি কর্পোরেশনের ভোট শুরু হয়েছে। ভোট চলবে একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
এ নির্বাচনে ৪২৫টি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। ৭ মেয়রপ্রার্থীর পাশাপাশি ২৫৪ সাধারণ কাউন্সিলর ও ৮৪ সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আরও প্রার্থী থাকলেও গাজীপুর সিটির মেয়র পদে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগের (নৌকা) মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপির (ধানের শীষ) হাসান উদ্দিন সরকার।
এমবি





