পাবনা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ- ২ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আবসিক গ্রাহকের অতিরিক্ত বিল প্রস্তুত করে আর্থিক ক্ষতিসহ এ দপ্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় তিনি মাদকাসক্ত বলেও একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।
বিউবো পাবনার বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর আওতাধীন রাধানগর ঈদগাহ পাড়া, ঈদগাহ সড়ক ও বাগান পাড়াসহ কয়েকটি মহল্লার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান, আলেয়া খাতুন, সাত্তার মন্ডলসহ আবাসিক বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা জানায় গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দুই মাস ধরে এ দপ্তর থেকে মিটার রিডিং অনুযায়ী বিল প্রস্তুত না করে অনুমান নির্ভর অতিরিক্ত বিল প্রস্তুত করে গ্রহকদের কাছে পোঁছানো হচ্ছে।
এসব গ্রাহকেরা আরও জানায়, গত দুই মাস পূর্বে বরাবরই প্রতি মাসের বিল আসতো মিটার রিডিং অনুযায়ী ২৫০/- টাকা হতে ৩০০/- টাকার মধ্যে। কিন্তু আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দুই মাসে বিল প্রস্তুত করা হয়েছে, কারো ৯ শ টাকা, কারো ১২শ টাকা আবার কারও ১৫শ টাকা। মিটার রিডিং অনুযায়ী বিল প্রস্তুত না করে অনুমান নির্ভর কয়েক গুন বেশি বিল প্রস্তত করায় এক দিকে আর্থিক ক্ষতি অন্যদিকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে বলে দাবী করেন এসব গ্রাহকেরা।
এদিকে এ দপ্তরে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে আসা আবেদনকারীরা জানায়, নির্বাহী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন টাকা ছাড়া কোন ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ অন-লাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। ৫শ টাকা দিলে কম্পিউটার ওপেন করে অনুমোদন করেন। টাকা না দিলে সে আবেদন মাসের পর মাস কম্পিউটারেই থেকে যায়।
এসব অভিযোগের সত্যতা জানার জন্য এ দপ্তরের কয়েকজন কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা বলেন দাপ্তরিক নিয়মানুযায়ী নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ ফাইল আটকে রাখা যায় না। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলীর নতুন সংযোগ ফাইল প্রতি ৫শ টাকা আদায়ের সত্যতা স্বীকার করেন। শুধু তাই নয়, একাধিক কর্মচারী বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন মাদকের নেশায় আশক্ত।
তিনি প্রায়ই সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সরকারি গাড়ি নিয়ে নতুন ব্রিজের ঢালে ঘোড়া স্ট্যান্ডে আড্ডা করেন যেখানে বসে এ ধরণের নেশা করেন বলে অনেকের মুখে শোনা যায়। এছাড়াও শহরের শালগাড়িয়া ও বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় তাকে দেখা যায় যেখানে মাদক কেনা-বেচা হয়।
এব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিনের সাথে দেখা করে এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার দপ্তরে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের কাজ করতে হয়। এ দপ্তরে যারা সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না তারাই এ ধরণের মিথ্যা অভিযোগ করতে পারে।
জেড





