ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রাপ্ত ৫ সচিবের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমাবার দুদক কমিশনার ড. মো. নাসির উদ্দিন আহম্মেদের(বিশেষ অনুসন্ধান) কার্যালয়ে অনুসন্ধানী কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা দেন বলে জানা যায়। দুদকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ৫ সচিবের নামে ইস্যুকরা সনদ ও প্রকাশিত গেজেট বাতিল করে ফৌজদারি আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে ।
আর ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সহদ গ্রহণকারী ৫ সচিবের মধ্যে রয়েছেন,বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব মোল্লা ওয়াহেদুজ্জামান,মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কেএইচ মাসুদ সিদ্দিকী,যুগ্ম সচিব আবুল কাসেম তালুকদার,স্বাস্থ্য সচিব নিয়াজ উদ্দিন মিয়া এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সচিব এককেএম আমির হোসেন।
তবে দুদক অভিযুক্ত ৫ সচিবের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের না করে বিষয়টি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং পাবলিক সার্বিস কমিশনকে (পিএসসি)আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছে।
এদিকে উপযুক্ত প্রমাণাদি ও সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তার প্রতিবেদনে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ থেকে অব্যাহতির সুপারিশ রেখেছে।
অভিযোগ উঠেছে,এ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কারণে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা আজ যথাযর্থ মর্যাদা থেকে বঞ্চিত এবং নানা পশ্নের সম্মুখিন হচ্ছেন।
জানা যায়,অনুসন্ধানকালে দুদকের উপ পরিচালক মো. জুলফিকার আলী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণকারী ওই সচিবদের ডেকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ৫ সচিবের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ পেতে সুপারিশকারী মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দফায় দফায় মুন্সিগঞ্জ ও কুষ্টিয়া জেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এবং কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন জেলার প্রায় আড়াই ডজন মুক্তিযোদ্ধাকে জিজ্ঞসাবাবাদ করেছে দুদক। সুপারিশকারীদের সই স্বাক্ষর যাচাই বাছাই করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে এ ৫ সচিব সরকারের কাছ থেকে কোনো ধরনের সুযোগ সুবিধা নিয়ে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা কি ভাবে সনদ ব্যবহার করে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং দাপটের সঙ্গে নানা সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
গত ১৭ জুলাই প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. খন্দকার শওকত হোসেন,বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান (সাবেক সচিব) মোল্লা ওয়াহেদুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কেএইচ মাসুদ সিদ্দিকী,স্বাস্থ্য সচিব নিয়াজ উদ্দিন মিয়ার কাছ থেকে দুদক ১৭টি প্রশ্নের লিখিত জবাব নিয়েছে। এর আগে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
২৩ জুলাই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সচিব একেএম আমির হোসেন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল কাসেম তালুকদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।
অভিযুক্তরা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণের মাধ্যমে তারা চাকরির মেয়াদ বাড়িয়েছেন কিনা, তারা এসিয়ার,পিডিএস (পার্সোনাল ডাটাশিট),মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাখিলকৃত সনদ,চাকরিতে যোগদানকালে পূরণকৃত ফর্মের সত্যায়িত অনুলিপি পর্যালোচনা করেছেন দুদক কর্মকর্তারা।
ঢাকা, একে, ১ সেপ্টম্বর ,টাইমনিউজবিডি.কম,টিআই





