প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই এক নাবালিকাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রব মিয়া। এ ঘটনায় তোলপাড় চলছে।

সোমবার গভীর রাতে চরফ্যাশন জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে ‘অনৈতিক’ সম্পর্কের অভিযোগে ষোড়শীসহ অবরুদ্ধ হন ওই ম্যাজিস্ট্রেট।

জনতার তোপের মুখে রাতভর পুলিশি পাহারা শেষে ওই নাবালিকাকে নিজের স্ত্রী দাবি করে পুত্র সন্তানের আশায় তাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন জানিয়ে রক্ষা পান।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কড়া পুলিশি প্রহরায় ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রব মিয়া আদালতের উদ্দেশ্যে ডাকবাংলো ত্যাগ করেন। এ সময় বিক্ষুদ্ধ লোকজন তাকে উদ্দেশ্য করে উক্তি করে।

চরফ্যাশন থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) আবুল বাসার জানান, সোমবার মধ্যরাতের পর ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রব মিয়ার নিরাপত্তার জন্য বাংলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এর আগে এক তরুণীকে নিয়ে বাংলোতে ‘অনৈতিক’ সম্পর্কে জড়িয়েছেন এমন গুজবে কতিপয় লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ালে নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

কিন্তু পরবর্তীতে ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলার ওমরপুর গ্রামের মহিউদ্দিনের মেয়ে তরুণী আসমা বেগমকে নিজের স্ত্রী দাবি করলে উত্তেজনা প্রশমিত হয়। এরপর বেলা ১১টার দিকে পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রত্যাহার করা হয়।

ওসি আবুল বাসার আরো জানান, পরে উত্তেজিত লোকজন আবারো ডাকবাংলো ঘিরে ফেললে সেখানে পুলিশ অবস্থান নেয়। ঘণ্টা খানেক পরে কড়া পাহারায় আদালতের উদ্দেশ্যে ডাকবাংলো ত্যাগ করেন ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রব।

ডাক ব্যাংলো ত্যাগ করার সময় ওই ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার প্রথম স্ত্রীর ঘরে তিন মেয়ে সন্তান আছে। কিন্ত কোনো পুত্র সন্তান নেই। পুত্র সন্তান হওয়ার কোনো আশাও নেই। তাই পুত্র সন্তানের আশায় গত ১০ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বিবাহ করি। তবে বিয়ের কাবিন করা হয়নি।’

দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেয়া হয়েছে কী না জানতে চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, প্রথম স্ত্রীর কাছে অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্ত তিনি অনুমতি দেননি। অনুমতি না দিলে আমি আর কি করবো?’

কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা বেগম অপ্রাপ্তবয়স্কা এবং আইনসিদ্ধভাবে তার (দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা) বিয়ের বয়স হয়নি এমন অভিযোগের জবাবে ম্যাজিস্ট্রেট দাবি করেন, কনের বয়স ১৯ বছরের বেশি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, পারিবারিক ভাবে বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়েই ধর্মমতে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছে।’

প্রথম স্ত্রীর পুত্র সন্তান হওয়ার আশা নেই ও পুত্র সন্তানের জন্য দ্বিতীয় বিবাহ করা নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের দাবির বিষয়ে তার প্রথম স্ত্রী সানজিদা খালেক পলাশ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সন্তান ছেলে কী মেয়ে হলো এ দায় স্ত্রীর নয়।

ছেলে হয়নি এমন অভিযোগ তুলে দ্বিতীয় বিবাহ করে তিনি (ম্যাজিস্ট্রেট) আমার মাতৃত্ব ও সন্তানের পিতৃত্বকে অপমান করেছেন। তিনি আমাকে বলেছেন, বিয়ে করেননি। এখন বিয়ে করে থাকলে অন্যায় করেছেন। আমি এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চাই।’

সানজিদা খালেক পলাশ জানান, আমাদের প্রথম মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে, দ্বিতীয় মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তৃতীয় মেয়ে এখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ছে।

এদিকে, চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রব মিয়ার দ্বিতীয় বিয়ের ঘটনার সত্যতা জানতে আসমা বেগমের ওমরপুর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিবেশীরা জানান, সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে বাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে।

পাশের গ্রামের (লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ) রাস্তায় সাক্ষাৎ মেলে আসমা বেগমের মা মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান জানান, ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে তার মেয়ের মনের বিয়ে হয়েছে। তবে কাবিনের বিয়ে হয়নি। বাড়ির আশপাশের লোকজনের অত্যাচারে তিনি নাবালিকা (অপ্রাপ্ত বয়স্কা) মেয়েকে বিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

অত্যাচার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মনোয়ারা বেগম বলেন, তার স্বামী মহিউদ্দিন গাছ ব্যবসায়ী। ওই ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে তাদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা আছে। একটি ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। অপর দুটি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা বেগম যে বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পাস করেছেন সেই পূর্ব রমাগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান বাবুল জানান, আসমা এ বছর তার বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছে। বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অনুযায়ী আসমা জম্ম তারিখ ২০ মার্চ, ১৯৯৮।

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ