নতুনভাবে দেশের সব সড়ক, মহাসড়ক ও সেতু নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ভারতীয় সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ)। ৫৪৫ কোটি ৬৫ লাখ ভারতীয় ঋণের টাকায় আধুনিক এবং অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি কেনার মাধ্যমে সড়ক-সেতু নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হবে।
সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়ক ও জনপথ অধিদফতরে ৬৫টি রোড ডিভিশন, ১৩৭টি রোড সাব-ডিভিশন, ১৮টি মেকানিক্যাল ডিভিশন ও ২১টি সাব মেকানিক্যাল ডিভিশন রয়েছে।
এ বিষয়ে সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ এন সিদ্দিক বলেন, ভারতীয় ঋণে ভারত থেকে ৫৪৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক এবং অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি কেনা হবে।
সরঞ্জামগুলো যাতে টেকসইভাবে সড়ক ও সেতু নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা যায় সে দিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। প্রকল্প আকারে আমাদের প্রস্তাবনা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ডিপিপি (প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব) এখন তাদের সম্পদ। ডিপিপি অনুমোদন পেলেই আমরা পরবর্তী পদক্ষেপে যাবো।
ডিভিশন ও সাব-ডিভিশনগুলো দেশের প্রায় ২১ হাজার ৩০২ কিলোমিটার মহাসড়ক, ১৮ হাজার ২৫৮টি সেতু ও ফেরি এবং পন্টুন নির্মাণ-ব্যবস্থাপনাসহ রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত। ডিভিশন ও সাব-ডিভিশনগুলোতে আধুনিক এবং অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি নেই।
ফলে সড়ক নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নতকরণসহ সড়ক নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ দ্রুতকরণ জরুরি। সেজন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হবে ভারত থেকে।
সওজ ভারতীয় ক্রেডিট লাইনের (এলওসি) মাধ্যমে সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় কাজগুলো বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ৬৯৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ভারতীয় ঋণ ৫৪৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। মূলত ঋণের শর্ত অনুযায়ী অবকাঠামো নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি ভারত থেকে কিনতে হচ্ছে।
ভারত থেকে আরও দুই বিলিয়ন ডলার (২০০ কোটি ডলার) সরল ঋণচুক্তি (এলওসি) হয়েছে। দেশের অবকাঠামো বিশেষ করে রেল-বিদ্যুৎ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে। তবে ঋণের অন্যতম শর্ত ৭৫ শতাংশ পণ্য ও সেবা অবশ্যই ভারত থেকে আমদানি করতে হবে।
এর আগেও ২০১০ সালে মনমোহন সিংয়ের সরকার এক বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছিল বাংলাদেশকে। ঋণের সুদের হার ও শর্ত চলমান ১ বিলিয়ন ডলারের ঋণের মতোই। সে হিসেবে নতুন ঋণের সুদহারও হবে ১ শতাংশ। এ ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছর।
এমআর





