বাঙ্গালী জাতির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। এদিন বাঙ্গালীরা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, দল সব ভেদাভেদ ভুলে একত্রে বৈশাখ পালন করে থাকে। সবারই প্রত্যাশা বৈশাখের আনন্দ বয়ে যাক সারা বছর। তাই বৈশাখ মেলায় আসা দর্শনার্থীরা জানালেন-দেশে শান্তির জন্য রজনৈতিক সমোঝতার কথা।
মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমণ্ডির রবীন্দ্রসরবর, শাহবাগ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্ক এলাকায় পহেলা বৈশাখ-১৪২২ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও মেলায় বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই এমনটা প্রত্যাশা করেন।
মঙ্গলবার ভোর হতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল, চারুকলা অনুষদ , রমনা পার্ক এলাকায় দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেন। সকাল ৯টা ১০মিনিটে চারুকলা থেকে মঙ্গল শোভা যাত্রার মধ্য দিয়েই দিনের কর্যক্রম শুরু হয়।
বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আয়োজন করা হয়েছে কনসার্ট। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের খেলনা বিক্রির দোকান, ঘোড়ার গাড়িতে চড়া, সাপুরের সাপ খেলাসহ অনেক ধরনের আয়োজন রয়েছে। এ উপলক্ষ্যে হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে সেসব এলাকাগুলোতে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে রমনা পার্কে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আজ যেমন দল, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই মিলে একাকার হয়ে গেছে, ঠিক তেমনি বছরের বাকি দিনগুলোও যেন এমন থাকে।
এদিনে রাজনৈতিক নেতাদের কাছে আপনার কি প্রত্যাশা-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "আমরা দেশে শান্তি চাই। আর দুই দল যেন আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসে।"
একই বিষয়ে কথা হয় হাইকোর্টের সামনে ফুটপাতে বসা মুচি কামাল মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, "ভাই, আমরা রাজনীতি বুঝি না, আমরা বুঝি পেটনীতি। আমরা যেভাবেই থাকি না কেন রাজনীতিবিদরা তা নিয়ে মাথা ঘামায় না। তারা শুধু নিজেদের বিষয়টিই ভালো বোঝে। কিন্তু আমরা চাই দুই দল যেন মারামারি-কাড়াকাড়ি না করে মিলে-মিশে দেশ চালায়।"
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘুরতে আসা ডাচ-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, "দেশের ভাল সবাই চায়। আজকের দিনের মত বছরের বাকি দিনগুলো থাকে- এটা আমিও চাই। দু'দল মিলে-মিশে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।"
তবে ভিন্ন কথাও বলেছেন কেউ কেউ। দেশে কোনো সমস্যা আছে বলে মানতে নারাজ তেজগাঁও কলেজের ছাত্র আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, "দেশে কোন রাজনৈতিক সমস্যা নেই। এখন যা দেখছেন তা সাময়িক, কিছু দিনের মধ্যেই সমাধান হয়ে যাবে।"
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসে। এ নির্বাচন নিয়ে দেশ ও বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা হয়। কারণ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াতসহ অনেক রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করেনি। তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট সারা দেশে হরতাল ও আবরোধের ডাক দেয়। এতে সহিংসতায় অনেক সাধারণ মানুষ প্রাণ হারায়। অনেকে আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
২০১৫ সালে গত নির্বাচনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ২০ দলীয় জোট অবরোধের ডাক দেয়, যা এখন পর্যন্ত বলবৎ আছে। যার কারণে দেশে অস্থিরতা বিরাজ করছে। আর এই অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে চাচ্ছে দেশবাসী। তাই তো পহেলা বৈশাখে রাজনৈতিক নেতাদের কাছে তাদের প্রত্যাশা সমঝোতার মাধ্যমে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা।
এআই/জেএ/জেডআই





