দেড় যুগ ধরে ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট ভোলা জেলা সদর হাসপাতাল। তাও কাগজে কলমে।
বাস্তবে ২০ শয্যার জনবলও ঠিকমত পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। ঔষধ, অক্সিজেন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় রোগীদের।
স্বাধীনতার আগে ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ভোলা সদর হাসপাতাল। এরপর ১৯৯৮ সালে ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নিত করা হলেও জনবল কাঠামো বাড়ানো হয়নি। সিভিল সার্জন কার্যালয় সুত্র জানায়, ২২টি চিকিৎসকের পদের মধ্যে ১৭টি এবং নার্সের ৫২টি পদের মধ্যে ৩৬ পদ শূন্য রয়েছে। শূন্য রয়েছে হাসপাতালের গুরুপ্তপূর্ণ আরএমও পদটিও।
শূন্যপদগুলোর মধ্যে ১২টি মেডিকেল অফিসারের মধ্যে ১১টি এবং ১০টি কলসালটেন্টের মধ্যে ৬টি পদ শূন্য। অন্যদিকে ৩৬টি সিনিয়র স্টাফ নার্সের মধ্যে ২৯টি, ১১টি স্টাফ নার্সের মধ্যে ৫টি এবং ৫টি জুনিয়র নার্সের মধ্যে একটি শূন্য রয়েছে।
এতে একদিকে যেমন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রোগীরা অন্যদিকে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়ছে।
রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যন্ত ওষুধ ও পরিক্ষা-নিরিক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় বাইরে থেকে ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয় তাদের।
জানা গেছে, হাসপাতালে অলটাসনোগ্রাম, রক্ত ও এক্সরে মেশিন থাকলেও ইজিজি মেশিন বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। সকল ধরনের পরীক্ষা হয়না হাসপাতালে। রোগীদের যেতে হয় স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে। এছাড়াও প্রায় সময়ই অক্সিজেন সংকট দেখা দেয়।
জেলার ১৮ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য একমাত্র ভরসা ভোলা সদর হাসপাতালে শয্যার অভাবে নারী ও পুরুষ মেডিসিন, সার্জারী, অর্থপেডিকস, গাইনী, ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডে প্রায়ই রোগীদের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হয়।
এক বছরের অধিক সময় ধরে এনেসথেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় বন্ধ রয়েছে সকল ধরনের অপারেশন। ডাক্তার স্বল্পতায় চিকিৎসক নার্সরাও দিশেহারা।
ভোলা সদর হাসপাতালেল চিকিৎসক ডা: সামি আহমেদ বলেন, ছোট ছোট কাটা ছেড়া ও ভাঙ্গার চিকিৎসা হলেও বড় ধরনের অপারেশন বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে সিজারিয়াল অপারেশনও। এতে রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স প্রতিভা রানী সিকদার বলেন, নার্স সংকট তাই একজন নার্সকে গড়ে ২/৩টি ওয়ার্ড সামলাতে হয়। আমাদের রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে মারাতœক হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, সরকার থেকে বিভিন্ন ৫০ আইটেমের ইনজেকশন ও ওষুধ সরবরাহ করা হলেও হাসপাতালে ওষুধ সংকট তীব্র। হাসপাতালে সরবরাহ নেই হার্ডের রোগীদের কোন ওষুধ। তাই এ ধরনের রোগীদের পড়তে হয় চরম বিরম্বনায়।
তবে হাসপাতালের স্টর কিপার আরিফুল ইসলাম বলেন, মাঝে মধ্যে ওষুধ সংকট থাকে। চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ হচ্ছে। এ মুহুর্তে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ রয়েছে।
হাসপাতাল সুত্র জানায়, সদর হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন আউটডোরে (বর্হিবিভাগে) ৫’শত রোগী চিকিৎসা নেন। ইনডোরে
শতাধিক রোগী ভর্তি হন। এতে দেখা দিচ্ছে শয্যা সংকট।
শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, একটি বেডে ২/৩টি শিশু চিকিৎসা নিচ্ছেন। শিশুদের জন্য মাত্র ১০ বেড রয়েছে কিন্তু তার বিপরীতে দৈনিক গড়ে ৪০/৪৫জন রোগী থাকায় গাদাগাদি করে শিশুদের চিকিৎসা নিতে হয়।
এদিকে, ১০০ শয্যার হাসপাতালে এ হাসপাতালটিকে শয্যা সংকট লেগেই থাকে। শয্যার অভাবে রোগীদের মেঝেতে বসে চিকিৎসা নিতে হয়। তবে ১০০শয্যার খাবার সরবরাহ থাকায় অন্যরা পাচ্ছেন না খাবার।
ভোলা সদর হাসপাতালে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: ইকবাল আহমেদ জানান, ডাক্তার সংকট তীব্র। একজনের পক্ষে এতো রোগীকে চিকিৎসা সেয়া সম্ভব নয়। দিনের বেলা কমপক্ষে ৬ জন চিকিৎসক থাকা জরুরী। কিন্তু সে তুলনায় চিকিৎসক নেই।
এ ব্যাপারে ভোলার সিভিল সার্জন ডা: ফরিদ আহমেদ বলেন, ডাক্তার সংকট থাকায় চিকিৎসা সেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবুও চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছে।
সদর হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সের পদায়ন চেয়ে উর্ধ্বতন কৃর্তপক্ষের নিকট চিঠি প্রেরন করেছি, তারা খুব শিগ্রই আমাদের চিকিৎসক দিবেন বলে আস্বস্ত করেছেন।
এমএ





